জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় নিজেদের প্রমাণ করতে হবে—গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জামায়াতের জনশক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাই সংগঠনের জনশক্তিকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে আগ্রাসী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ভূখণ্ড দখলের পরিবর্তে তারা এখন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে সরকারকে নিজেদের অধীনস্থ করে রাখার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী নীতিগতভাবে অবস্থান করবে।
তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করা এবং আদর্শ ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। তরুণ ও যুবসমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংগঠনের মধ্যে ভিন্নমতকে সম্মান করা, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের চর্চা, দুর্নীতি ও নৈতিকতাহীনতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ, নারী জনশক্তির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কাজ আল্লাহর কাজ। তাই এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আমানতদারিতা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নগরীর একটি মিলনায়তনে উপজেলা-থানা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চলের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মো. মাসুম, সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ ও মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এটিএম মাসুম ‘সংগঠন পরিচালনায় ইসলামী নীতি’ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ইসলাম মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল জীবনব্যবস্থা। আল্লাহর বিধানকে পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত। মানুষের হৃদয় ও মন জয় করে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠাই স্বাভাবিক পদ্ধতি। সংগঠনের দায়িত্বশীলদের হক আদায় করে আমানতদারিতার সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে হবে।
মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম ‘সুন্নাতে রাসুল (সা.)-এর আলোকে জীবন গঠন’ বিষয়ে বলেন, রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন গঠন করতে হবে। ঈমান ও আক্বীদার পাশাপাশি ইবাদাত, ফরজ-ওয়াজিব, সুন্নাত-নফল, পরিবার, প্রতিবেশী, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা, যিকির ও দোয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যেরই অংশ এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণে কোনো ধরনের কুন্ঠা থাকা উচিত নয়।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি হলেও এ খাত নানা সীমাবদ্ধতায় রয়েছে। স্থানীয় সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান এবং রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। প্রান্তিক মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মুমিন হিসেবে মানুষের সেবা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সংগঠনের ভেতর সুশৃঙ্খল পরিবেশ তিলে তিলে গড়ে তুলতে হয়। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সংগঠন পরিচালনায় আদেশ ও আনুগত্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। নেতৃত্বের দোহাই দিয়ে কর্তৃত্বের পর্যায়ে যাওয়া যাবে না; বরং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। ইহতেসাব ও মুহাসাবার মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করতে হবে এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি জেলা আমীর অধ্যাপক সৈয়দ মো. আব্দুল মোমেন। এছাড়া শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বারসহ চট্টগ্রাম মহানগরী, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
