চট্টগ্রামে বিভিন্ন যুবককে অপহরণ করে যৌন নিপীড়ন (বলাৎকার), বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে নুর হোসাইন নুরু নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।

নুরু যুবদলের কর্মী। যুবদলের পরিচয়ে এসব অনৈতিক কাজ করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে মাথা ন্যাডা করে এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে আত্মগোপন করেও গ্রেপ্তার এড়াতে পারেনি নুরু।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জানান এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। গ্রেপ্তার নুরু সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা সারেংবাড়ির মৃত নুর আলমের ছেলে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর মামলার এজাহারনামীয় প্রধান পলাতক আসামি নুর হোসাইন নুরুকে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসআরবি জানায়, এর আগে নুরুর বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। মামলার অভিযোগে বলা হয়, নুরু ও তার অনুসারীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে এনে যৌন নিপীড়ন করতেন।
এ ঘটনা প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীদের আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। একপর্যায়ে তাদের বিবস্ত্র করে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর আগে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের ঢাকায় কর্মরত এক নারী সাংবাদিককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে তিনি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলায় নুরুকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

এ ছাড়া ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নুরু যুবদলের ব্যানারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নুরুকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও খবর