সারা দেশের মতো ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ধূপের সৌরভে চট্টগ্রামে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম সফলে তিনি এদিন সন্ধ্যায় নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএমসেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো এসে ছিলেন তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সনাতনী সম্প্রদায়ের কোনো অনুষ্ঠানে সরকার হিসেবে সেটি ছিল প্রথম। মায়ের পর এবার আসছেন তাঁর ছেলে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তাঁর এই আগমনে চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের পুজার আনন্দে যেন অন্য রকম আবহ সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলজুড়ে জোরদার করা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাবলয়।

সনাতন ধর্মের অনুসারী সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বীর চট্টলার সনাতনী সম্প্রদায় খুবই উচ্ছ্বাসিত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সনাতনী সম্প্রদায় বিএনপিকে উজাড় করে ভোট দিয়েছে তাঁর প্রত্যাশা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রধান প্রত্যাশা হল নিরাপত্তা। ইতোমধ্যে দুর্গা পুজার ছুটি বৃদ্ধি, অনুদান বৃদ্ধি, পুরোহিত ও সেবায়েতদের ভাতা প্রদান সহ সনাতনী সম্প্রদায়ের কল্যাণে সকল পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড অবস্থিত জাতীয় মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সিঁড়ি, রাস্তাসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জেএমসেন হলে একটি ২০ তলা বিশিষ্ট মাল্টি কমপ্লেক্স আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সনাতনী সম্প্রদায়ের। আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা ঘোষণা দিবেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জি বলেন, সরকার প্রধান আমাদের অনুষ্ঠানে আসছেন-এটি আমাদের জন্য, চট্টগ্রামবাসীর জন্য গর্বের, আনন্দের। আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরটি নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নির্দেশনা ও সমন্বয়ে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, গুজব ও নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

আরও খবর