উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে দাবী করলেও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজার এলাকা থেকে নিখোঁজেরর ঘটনার তিন দিন পার হলেও সন্ধান মিলেনি ব্যবসায়ী মো. হাসানের (৩৫)। পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বাবার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর দুই অবুঝ সন্তানের। স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় নির্বাক প্রায় অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীও।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুখে কালো মাস্ক পরা চার ব্যক্তি দোকানে ঢুকে হাসানকে তুলে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসানকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নাপোড়া থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নেওয়া হয়। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় তাঁকে চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কারা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন–এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মো. হাসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের মেজো ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই আবুল কাশেম। হাসানের আরেক ভাই রবি আলম। তাঁর ছোট ভাই মো. হোসাইন ব্রাজিল প্রবাসী বর্তমানে দেশে আছেন।

অপহৃত হাসানের পিতা হাজী নুরুল কবির বলেন, ‘আমার সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিন। আমার ছেলে নিরপরাধ। সে কোনো দিন কারও সঙ্গে তর্কে জড়ায়নি, কারও সঙ্গে তার শত্রুতাও নেই। কেন আমার সন্তানকে তুলে নেওয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার পর দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন হাসান। ঘটনার দিনও তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
হাসানের বড় ছেলে মো. আব্দুল্লাহর বয়স ১২ বছর। ছোট মেয়ে আলিমার বয়স মাত্র তিন বছর। বাবার অনুপস্থিতিতে শিশু দুটি কী ঘটেছে, তা পুরোপুরি বুঝে উঠতে না পারলেও বাবাকে কাছে না পেয়ে অস্থির হয়ে উঠছে। অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘ব্যবসায়ী হাসানকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তাঁকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল ও গোয়েন্দা টিম সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।’

আরও খবর