প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটাই—একটি বাংলাদেশ গড়া। যেখানে আমরা সকলে মিলে মিশে শান্তিতে থাকবো। এটিই ছিল যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন করেছেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন, সংগ্রাম করেছেন তাদের লক্ষ্য। আসুন আমরা সকলে মিলে সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশটি গড়ি। আজকে যদি সে বাংলাদেশ গড়তে হয়—আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সকলে সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, বৌদ্ধ হোন, খ্রিস্টান যাই হোন না কেন। আপনার সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো না। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সহযোগিতা চাই।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার পর চট্টগ্রাম জেএমসেন হল পুজামণ্ডপে মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর রায়, নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, আবু সুফিয়ান এমপি, জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরীসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এতটুকু বলার জন্য, এদেশ আপনার, এদেশ আমার। এদেশ আমাদের সকলের। ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয় কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষ আমরা বাংলাদেশী। যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এদেশে বেড়ে উঠছি আমরা এদেশের নাগরিক। আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। চিন্তা করে দেখুন। আমি একজন মুসলমান। আমাকে রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭টি বছর দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। এখানে আপনি সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু বলছেন। আমি যখন লন্ডন ছিলাম সেখানে তো আমি সংখ্যাগুরু ছিলাম? সেখানে তো অন্য ধর্মের মানুষ বেশী। কাজেই সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু বিষয় নয়, বিষয় আপনি বাংলাদেশী। এদেশের আইন আমার জন্য যেমন প্রযোজ্য, আপনার জন্যও প্রযোজ্য। এদেশের ওপর আমার যে অধিকার আছে, আপনারও সে অধিকার আছে। এ রাষ্ট্র আপনাকে যা দিবে, আমাকেও তা দিবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে এই বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল। যুদ্ধের মাধ্যমে তাঁরা এই মাতৃভূমিকে ছিনিয়ে এনেছিল। সেদিন যুদ্ধের মাঠে লক্ষ মানুষ যুদ্ধ করেছিল। কয়েকলক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশেকে স্বাধীন করেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বার বার গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। সেসময় ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছিল গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। জনগণের কথা বলার অধিকার, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি আমার পাশের কর্মীটা কোন ধর্মের। আমার সামনের কিংবা পিছনের কর্মীটা কোন ধর্মের।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এদের মানুষ এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে মানুষ সেদিন বেরিয়ে এসেছিলেন। মা-বোনেরা বেশী এসেছিলেন। বিভিন্ন বয়সের মানুষ বেরিয়ে এসেছিলেন, শিশুরা বেরিয়ে এসেছিলো। তরুণরা বেরিয়ে এসেছিল। দেশের প্রতিটি জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বেরিয়ে এসেছিল। স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তখন কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি-গুলি খাওয়া মানুষটা কী মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ-খ্রিস্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদেরকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়েছেন। চিকিৎসক জিজ্ঞেস করেননি কোরো ধর্ম পরিচয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী হোটেল রেডিসনে দলীয় সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে রাতেই ঢাকা ফিরে যান।

আরও খবর