ছয় দেশের ৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং চলচ্চিত্রকে ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল অল উইমেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (CIAWFF) ২০২৬-এর দ্বিতীয় আসর। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামে।

নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, তাঁদের কাজের সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নির্মাতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ফিল্ম ফর আস ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ফিল্ম ক্লাব যৌথভাবে এই উৎসব আয়োজন করে।

এবারের উৎসবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিকশন, ডকুমেন্টারি এবং ডিজিটাল স্টোরিটেলিং—তিনটি বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন দেশের নারী নির্মাতাদের কাজের পাশাপাশি উৎসবে ছিল নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ আয়োজন।
এবারের আসরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয় ডিজিটাল স্টোরিটেলিং কম্পিটিশন। চলচ্চিত্রের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে ছবি, ভিডিও, লেখা, শব্দ, অ্যানিমেশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গল্প বলার কাজগুলোকে এই বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উৎসবের অন্যতম বিশেষ আয়োজন ছিল ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন। ইরানের নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে চট্টগ্রামের দর্শকদের তাঁদের কাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল ভিন্ন একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

তিন বিভাগে পুরস্কার
১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (AUW) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সঙ্গীতা রায়মাঝি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিজয়ী নির্মাতাদের হাতে উৎসবের ক্রেস্ট তুলে দেন। এবারের উৎসবে পুরস্কার পেয়েছেন—বেস্ট ফিকশন-তাবাসসুম তানহার (What If), বেস্ট ডকুমেন্টারি:সুরাইয়া তাসনিন সাথীর (Reshma), বেস্ট ডিজিটাল স্টোরিটেলিং-ফাতিমা তকাওয়ি। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চট্টগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. গুরুপদ চক্রবর্তী।

উৎসবের পরিচালক ও ফিল্ম ফর আস’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, “CIAWFF শুরু করার সময় আমাদের মূল চিন্তা ছিল নারী নির্মাতাদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে তাঁরা তাঁদের কাজ দেখাতে পারবেন এবং দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। দুই বছর পর এসে মনে হচ্ছে, আমরা ধীরে ধীরে সেই জায়গাটা তৈরি করতে পারছি। এ বছর ছয় দেশের ৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে এবং নতুন করে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং বিভাগ যুক্ত হয়েছে। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নির্মাতা, শিক্ষার্থী এবং দর্শক একসঙ্গে এসে চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র উৎসবকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্মাতা ও দর্শকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা। একজন নির্মাতা এখানে তাঁর দর্শক খুঁজে পাবেন, একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি চলচ্চিত্র দেখে নিজে চলচ্চিত্র বানানোর আগ্রহ পাবেন, কিংবা এখানে পরিচিত হওয়া দুজন নির্মাতা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করবেন—আমাদের কাছে এগুলোও উৎসবের সাফল্যের অংশ।”

এবারের আয়োজনে কানেক্ট হার (ConnectHER) স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে। উৎসবের co-organizer হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে AUW Film Club। এছাড়া Lekhalikhi এবং Alliance Française de Chittagong উৎসবটির সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। Bangladesh Federation of Film Societies এবারের আয়োজনকে সমর্থন করেছে।

আয়োজনে যুক্ত ছিলেন ফিল্ম ফর আস’র সহ-প্রতিষ্ঠাত সাদিয়া আফরিন, AUW Film Club-এর সভাপতি তাসনিম তাবাস্সুম সুবাহ, লিখালিখি’র প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদা ফারজানা জামান রুপা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে উৎসবে অংশ নেওয়া সকল চলচ্চিত্র নির্মাতা, জুরি সদস্য, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, দর্শক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

আরও খবর