আওয়ামী আমলে দায়মুক্তি পাওয়া ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার এবং মেয়ের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে সংস্থাটি।

রোববার (৮ মার্চ) প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক পরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। ২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তবে দীর্ঘ চার বছর পর আওয়ামী শাসনামলে ২০২৩ সালে রহস্যজনকভাবে সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান তিনি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ফের সামশুল হক চৌধুরী ও তার পরিবারের দুর্নীতির খোঁজে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে প্রায় পৌনে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করলো সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সামশুল হক চৌধুরীর নামে প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিলে তার সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ টাকা। ফলে তার অর্জিত সম্পদের তুলনায় বৈধ আয়ের সঙ্গে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৯৪ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৪ টাকা। এতে তার সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। ফলে অর্জিত সম্পদের তুলনায় বৈধ আয়ের সঙ্গে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে অর্জিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এছাড়া তাদের সন্তান তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামেও ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৩১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৬ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা। এতে তাঁর সঞ্চয় দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৬ টাকা। ফলে অর্জিত সম্পদের তুলনায় বৈধ আয়ের সঙ্গে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানকারী দলের সুপারিশের ভিত্তিতে সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও খবর