মেরিটাইম খাতের বিকাশে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে—নৌপরিবহন মন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মেরিটাইম সেক্টরে কাজ করার মতো আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, দক্ষ জনবল আছে। কিন্তু সম্ভাবনাময় এ খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করে এ খাতকে জনমূখী ও কার্যকর খাতে পরিণত করার মতো ব্যবস্থা অতীতে গ্রহণ করা হয়নি। তবে এখন কাজ শুরু করা হয়েছে। সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এ খাতের বিকাশে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ব মেরিটাইম ডে (প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার) ও মেরিন একাডেমির ৬৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
দেশী বিদেশী জাহাজে পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কাজ করা নাবিকগণ দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে তারা মানসিকভাবে দক্ষ ও শক্তিশালী হন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানসিক এ দৃঢ়তা থাকার কারনে শতকরা ৭০ ভাগের জলরাশিতে মাত্র ১৮-২০ শতাংশ মানুষকে কাজ করে পৃথিবীর মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যের যোগান দিয়ে থাকেন। তারা মানুষের সাথে মানুষের, দেশের সাথে দেশের কানেক্টিভিটি তৈরি করেন, বহির্বিশে^ দেশের দূত হিসেবে কাজ করেন। কাজেই শিপিং লাইনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে আমরা অতীতের ব্যর্থতা দূর করে সামনে এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, এ সেক্টরে কাজ করা মানুষের জানা বুঝার ক্ষেত্রে কোন ঘাটতি নেই, তবে দিনশেষে অর্জন অনেকটা ম্রিয়মান। কাজেই আমরা অর্জনটাকে বাড়াবার চেষ্টা করবো।
শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর অর্থনীতির হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রযু্িক্ত নির্ভর কাজ শুরু হয়েছে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে, পণ্য খালাস ও জাহাজের গড় অবস্থান সময় অনেক কমেছে। এখন প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন, না হলে সকল কিছু মুখ থুবড়ে পড়বে।
মেরিন একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা নাবিকদের চাকরির ক্ষেত্রে ১ বছরের ইন্টার্নশীপ সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং ক্যাডেটদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা তাকে অবগত করালে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি এসময় উল্লেখ করেন।
এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, ডি জি শিপিং কমোডর শফিউল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাহাজ মালিক, প্রতিনিধিগণ এবং সিঙ্গাপুর চায়না ও সাইপ্রাসের শিপিং সেক্টরের এজেন্টগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে মন্ত্রী একাডেমি প্রাঙ্গনে পৌঁছালে একাডেমি কম্যান্ডেন্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামিম তাঁকে স্বাগত জানান। এসময় ক্যাডেটগণ কূচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। মন্ত্রী কূচকাওয়াজ পরিবদর্শন করেন। পরে তিনি একাডেমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে নেতৃত্ব দেন।
