ফটিকছড়ি আসনের সাংসদ সরোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৪৮ এর তৃতীয় তফসিল ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরকে শপথ পাঠ করান। শপথ গ্রহণ শেষে তিনি রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। সেই আপিলের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর।
এরপর হাইকোর্ট এক আদেশে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন এবং তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করলেও সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেন। তবে একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, ঋণের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এতদিন তার গেজেট ও শপথ আটকে ছিল।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ উচ্চ আদালতের রায়ে তার প্রার্থিতা ও ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ বৈধতা পায় এবং শপথ নেওয়ার সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটে।
শপথ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপসহ অন্যান্য হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
