প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ইসমাঈলের অবৈধ সম্পর্কের প্রমাণ জামায়াতের হাতে
এক সন্তানের জননীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানা জামায়াতের সভাপতি পদ হারানো মো. ইসমাঈলের প্রায় তিন বছরের অপকর্মের প্রমাণ জামায়াতের দলীয় তদন্ত কমিটির হাতে এসেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসমাঈল সেই নারীকে মাসিক বাজার-সদাই করে দেয়া এবং বিল পরিশোধের তথ্যও তদন্ত কমিটি পেয়েছে।
এছাড়া ইসমাঈল তদন্ত কমিটিকে সেই নারী সম্পর্কে যা যা তথ্য দিয়েছে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তার বাসা ও কর্মস্থল কাছাকাছি হওয়ায় রাতের পাশাপাশি দিনেও ইসমাঈলের যাতায়াত ছিল সেই বাসায় যা তদন্ত কমিটিকে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা।
তবে ইসমাঈল তার পরিবারের সদস্যদের ওই নারীর বাসায় পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নিষেধ করার পাশাপাশি হুমকি দিয়েছে বলেও জানা গেছে। এর আগে ওই নারীর সাবেক স্বামীকে ইসমাঈল হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রবাসী ও তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। ইসমাঈলের সঙ্গে তার শারিরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করা এবং ইসমাঈল কর্তৃক সেই প্রবাসীকে হত্যার হুমকি দেয়ায় তারা ওই নারীকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
প্রবাসীকে হত্যার হুমকি দেয়াসহ একাধিক ফৌজদারি অপরাধে ইসমাঈলের বিরুদ্ধে ওই পরিবার আদালতে মামলা করতে পারেন বলে জানা গেছে।
গত ৮ অক্টোবর জামায়াতের নগর শাখার আমির নজরুল ইসলাম তাকে পদ থেকে সরিয়ে তার পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা সভাপতির দায়িত্ব দেন। এতে তার অপকর্মের তথ্য যারা জানতো তারা খুশি হলেও পরদিন যখন ইসমাঈলকে নগর কর্মপরিষদের বৈঠকে দেখে তখন সবাই বিষ্মিত হন বলে জানা গেছে। এরপর শুরু হয় দলের মধ্যেই তোলপাড়।
জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে সেই নারীর ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো নজরদারিতে রাখে তার সিঙ্গাপুর প্রবাসী স্বামী। ইসমাঈলের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা বিবেচনায় ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ সেই প্রবাসী স্বামী ওই নারীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। সেই ব্যক্তির পাঠানো তথ্য প্রমাণ দেখে নগর জামায়াতের নেতাদের মুখে চুনকালি পড়ে।
ইসমাঈলকে বাঁচাতে জামায়াতের মোহাম্মদ শাহজাহান, ফয়সাল মো. ইউনুস, শামসুজ্জামান হেলালীসহ ৫ জনের সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লাগে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত ইসমাঈলের রুকন পদ বাতিলের ঘোষণা না আসায় জামায়াতের সর্বস্তরে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ জেনেছেন। আগামী ২০ অক্টোবর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম আসার কথা রয়েছ। তিনি আসলে ইসমাঈলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। সমালোচনার মুখে ইসমাঈলকে আপাতত সাংগঠনিক কাজে ডাকছে না বলে জানা গেছে।
তবে, তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। দলের পক্ষ থেকে তাকে ওয়ামি, আইএমসিএইচ, জামায়াতের যুববিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। এমন অপকর্মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকার পরও তার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হওয়ায় জামায়াতের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
