এরাও এখন সাংবাদিক!
শাহরিয়ার মনির জিসান, দক্ষিণ জেল ছাত্রলীগের সংগঠক হিসেবে বোয়ালখালীতে ছিল তার দাপট। নগরে এসে ওমরগনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। ছাত্র রাজনীতির আড়ালে অস্ত্র ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সেক্রেটারি জাকারিয়া দস্তগীরের ঘনিষ্ঠ ছিল।

জুলাইয়ে ছাত্রহত্যার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্তদের সঙ্গে জিসান
জাকারিয়া দস্তগীর শুধু নয়, এমইএস কলেজে নগর আওয়ামী লীগের যে বলয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল সেই বলয়ের নিয়ন্ত্রক পলাতক খুনি মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিউদ্দিন বাচ্চু থেকে শুরু করে সবার সঙ্গে ছিল তার সখ্যতা।

দলীয় ক্যাডার থাকা ছাড়াও জিসান বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করার প্রমাণ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর জিসান সাংবাদিক সেজেছে। প্রথমে তার পরিচয় চট্টগ্রাম নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার। চট্টগ্রাম নিউজের সম্পাদক শুকলাল দাস। যিনি জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ভাঙ্গতে ডিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের আগে শুকলাল দাসের চট্টগ্রাম নিউজ ছিল হাসিনা বন্দনায় ভরপুর, ৫ আগস্টের পর বিএনপি-জামায়াত বন্দনায়! নিউজ সাইট থেকে আওয়ামী ক্যাডার শুকলাল নিজের নাম সরিয়ে ফেলেছে।
সময়ের ব্যবধানে জিসান এখন চট্টগ্রাম জার্নালের সিনিয়র রিপোর্টার পরিচয় দেয়। এই লিখাটি লিখার সময় চট্টগ্রাম জার্নাল এবং চট্টগ্রাম নিউজের সাইট ভিজিট করে ঢাকার পত্রিকার কপিপেস্ট নিউজ এবং কয়েকটি সংস্থার প্রেস রিলিজ ছাড়া কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ২১শে আগস্টের বোমা হামলার জন্য দায়ী করে দেয়া জিসানের ফেসবুক পোস্ট
জিসানের ফেসবুক ওয়ালে এখনো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার করা স্ট্যাটাস রয়েছে। রয়েছে খুনিদের সঙ্গে ছবিও।
আরেক জন—রোজী চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের একনিষ্ট কর্মী। তাকে দেখা যেতো চেরাগীর আশপাশে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয় দেখা যেতো। সাংবাদিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী ক্যাডারের সঙ্গে উঠাবসা করতো।

২ আগস্ট ২০২৪ রোজী চৌধুরী আওয়ামী হায়েনাদের সঙ্গে জামালখানে মিছিল করেছে। তারও আগে প্রেস ক্লাবের সামনে পলাতক হাসান মাহমুদের কর্মসূচিতে তাকে মঞ্চে দেখা গেছে। খুনি হাসিনা পালিয়ে গেলেও রেখে গেছে রোজী চৌধুরীদের। রোজী চৌধুরী এখনও আশায় আছেন আপা আসবে। তার ফেসবুক ওয়ালজুড়ে ছিল আপা আর আপা।

জুলাই আন্দোলনের আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলে রোজী
৫ আগস্ট পর্যন্ত রোজি ছিল বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কর্মী। চট্টগ্রাম নগরের অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারগুলোর পাশাপাশি তারকা হোটেলগুলোতে আওয়ামী লীগের লুটেরা নেতাদের কিংবা তাদের সন্তানদের বিয়ের দাওয়াত একটাও রোজি মিস করতো না। অনুষ্ঠানে খাওয়ার চেয়ে নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে মনোযোগ আকর্ষণই ছিল তার টার্গেট। তার ওয়ালে সব নেতাদের সঙ্গেই ছবি আছে।

জুলাই আন্দোলন চলাকালে ছাত্রহত্যার পক্ষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আওয়ামী সমাবেশে রোজী
৫ আগস্টের পর রোজী চৌধুরী হয়ে গেছেন মস্তবড় সাংবাদিক। বেশ কয়েকজন মূলধারার সাংবাদিক নিশ্চিত করেছেন-আওয়ামী লীগের মাঠের কর্মী রোজী চৌধুরী সাংবাদিক পরিচয়ে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং সরকারী দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়াই তার টার্গেট।

আপা ফেরার অপেক্ষায় রোজী
পুলিশের কিংবা কোনো সংস্থার প্রেস রিলিজ বা প্রেস ব্রিফিং ছাড়া চট্টগ্রাম জার্নালে মৌলিক কোনো সংবাদ নেই। নিজেদের সাংবাদিকদের করা প্রতিবেদন এখনও পর্যন্ত কোনো পাঠক কিংবা সাংবাদিকের চোখে পড়েনি। তাদের ফেসবুক ওয়ালজুড়ে এখনও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের প্রচারণা। দেশে একটি গণহত্যা হলো। গণহত্যার প্রতিবাদে গণঅভ্যুত্থান হলো। এরা এখনও গণহত্যাকারীদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছে সাংবাদিক পরিচয়ে।

এখন প্রশ্ন হলো-সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কী খুনি হাসিনার এই সহযোগীরা পার পেয়ে যাবে? তাদের কে পুনর্বাসন করছে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে-রোজী চৌধুরীদের আশ্রয় দিচ্ছে খুনিদের আরেক সহযোগী শুকলাল দাস। যে শুকলাল দাস ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছিল। সঙ্গে আছে তথাকথিত কিছু মানবাধিকার ব্যবসায়ী। যারা হাসিনার দেড় যুদের স্বৈরশাসনামলে হাজারো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ছিল নীরব।

প্রশ্ন হচ্ছে ছাত্রলীগ করে আসা কেউ কী সাংবাদিকতা করতে পারবে না? অবশ্যই পারবে। তবে এরা সাংবাদিকতার আড়ালে মূলত তথ্য পাচার করছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে মিশে নানা রকম তথ্য সংগ্রহ করে। সেসব তথ্য তাদের চ্যানেলে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
