চট্টগ্রামে ১৪ চোরাই মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি ও চকবাজার থানা পৃথক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের অন্যতম হোতাসহ পাঁচজন মোটরসাইকেল চোরকে গ্রেপ্তার কের। পাশাপাশি স্বর্ণ আত্মসাৎ মামলার এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল এবং প্রায় ১১ লাখ টাকার গলানো ও অংগুলিহীন স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে।
কোতোয়ালি থানার অভিযান ও ১৪ মোটরসাইকেল উদ্ধার:
সিএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির জানান, ধারাবাহিক অভিযানে মোটর সাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরণের সাফল্য এসেছে। গত ১২ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানাধীন কাঠের বাংলো এলাকা থেকে চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. সুমন (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে আমাদের টিম। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও চারজন আসামিসহ মোট ৬টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল হিরো হনেট ১৫০ সিসি এবং হোন্ডা সিবি সাইনসহ দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এ সময় চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. ইমরান হোসেন (২৮)-কে আটক করা হয়। ইমরানের বিরুদ্ধে এর আগেও জোরারগঞ্জ থানায় চুরির মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ইমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। এর মধ্যে জোরারগঞ্জ থানা এলাকা থেকে চারটি (অ্যাপাচি আরটিআর ১৫০ সিসি, হিরো হোন্ডা হনেট ১৫০ সিসি, হিরো হোন্ডা হাংক ১৫০ সিসি এবং জিক্সার মনোটোন ১৫০ সিসি), নোয়াখালীর চরজব্বর থানা থেকে একটি গ্লামার ১১৫ সিসি এবং মীরসরাই থানা এলাকা থেকে একটি বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে এই চক্রের কাছ থেকে মোট ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
চকবাজার থানার অভিযান ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার:
অপরদিকে, চকবাজার থানা এলাকার একটি চঞ্চল্যকর স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে মামলার আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬) দাওয়াত খাওয়ার নাম করে বাদীর স্ত্রী ও মায়ের কাছ থেকে মোট ৮ ভরি ৮ আনা ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার নিয়ে আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় গত ১৮ অক্টোবর প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত অপরাধে (ধারা ৪২০/৪০৬ পেনাল কোড) একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা রুজুর পর চকবাজার থানা পুলিশ প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের সহায়তায় ১৮ অক্টোবর দুপুরে খুলশী থানাধীন বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারগুলো তিনি কোতোয়ালী থানাধীন দিদার মার্কেটের নিচতলার ‘নোভা জুয়েলার্স’-এর ম্যানেজার শুভ মজুমদার (৩৬)-এর কাছে বিক্রি করেছেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েলারি দোকানের ম্যানেজার জানান, পূর্বপরিচয়ের সুবাদে ওই নারী বিভিন্ন সময় স্বর্ণ কেনাবেচা করায় তার কাছে স্বর্ণগুলো রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ওই স্বর্ণ গলিয়ে নতুন অলংকার তৈরি করা হয়। পরে আসামির শনাক্তকরণ ও দোকান ম্যানেজারের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৩টি আংটি, ২ জোড়া কানের দুল, আরও ৯টি আংটি, ১টি হাতের বালা, ৩টি গলার চেইন এবং ৩ জোড়া কানের দুলসহ মোট ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ লাখ টাকারও বেশি।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎকৃত বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
