চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম পাহাড়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষন করে শিশু ইরার ঘাতককে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাহবুব (৫০) মেয়েটির একই এলাকা কুমিরার বাসিন্দা। মাহবুবকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার দুপুরের দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় গলা জবাই করা একটি ৭ বছর বয়সী মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে সীতাকুণ্ড থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মেয়েটির বাবাও সেখানে ছুটে যান। এতে জানা যায় ইরা সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া গ্রামের দরিদ্র রিক্সা চালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে।
মেয়েটির বাবা মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় ইরা প্রতিদিন সকালে একই গ্রামে থাকা তার দাদার বাড়িতে যেত। আবার ২-৩ ঘন্টা পর ফিরে আসত। সেদিনও দাদার বাড়ির উদ্দেশ্যে গেলে তারা নিশ্চিন্তে ছিলেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে তারা জানতে পারেন বাড়ি থেকে অন্তত ১৫ কি.মি. দূরবর্তী ফকিরহাট ইকোপার্কে হীরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এতে তিনি ছুটে যান এবং ঐ রাতে তার স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মেয়েটিকে উদ্ধারের পর চমেকে আনা হলে সেখানে রবি ও সোমবার তার গলায় দুই দফার অপারেশন করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করায় তার শ্বাসনালী কেটে যায়। এতে অপারেশনের পর তাকে কৃত্রিম শ্বাসনালীর যন্ত্র বসিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হচ্ছিল। সোমবার রাত পর্যন্ত তাকে অনেকটা স্বাভাবিক লাগছিলো। এতে সে বেঁচে ফিরবে বলে সবাই আশাবাদী হয়ে উঠে। কিন্তু গভীর রাতে হটাৎ তার শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন তার শ্বাস নেবার যন্ত্রটিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ত্রুটি ধরা পড়ায় নতুন যন্ত্র আনার জন্য বলা হলে তার স্বজনরা অনেক জায়গায় ঘুরেও দোকান বন্ধ থাকায় আর কোন শ্বাস যন্ত্র আনতে পারেননি। পরে তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া নিয়ে যাওয়া হলে ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

এদিকে শিশুটির এভাবে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। দ্রুততম সময়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবী জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও।

এদিকে ঘটনার পর থেকে তদন্তে নেমেও পুলিশ ইকোপার্কে হত্যাকারীর কোন ক্লু পাচ্ছিলো না পুলিশ। পরে এদিন বিকেলের দিকে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি দল চন্দ্রনাথ ধাম এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির অফিসে গিয়ে রবিবারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মেয়েটিকে এক মধ্যবয়সী লোকের সাথে চন্দ্রনাথ ধামের পথে যেতে দেখা যায়। এই ভিডিও দেখে পরিবারের লোকজন তাকে তাদের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মাহবুব বলে সনাক্ত করেন।

পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন। একথা নিশ্চিত করেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ মহিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম সে বেঁচে উঠবে। কিন্তু তা হলো না। তিনি বলেন তদন্তকালে কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়ে আমরা খুনীকে সনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তাকে আদালতে চালান করব। সেখানে নিশ্চয়ই সে উপযুক্ত সাজা পাবে।

আরও খবর