চসিক নির্বাচন—জামায়াতের মেয়রপ্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জন!
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়রপ্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। দলটির নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হলেও তাঁকে নিয়ে দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ্যে এলো। এ অবস্থায় নতুন করে মেয়রপ্রার্থী নির্ধারণের আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকজন নেতার নাম।
কেউ কেউ বলছেন—চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের নাম। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক শিবির নেতাকর্মীদের ওয়ালজুড়ে নগর শিবিরের সাবেক সভাপতি ড. আ ম ম মসরুর হোসাইনের নাম। কেউ কেউ ঢাকসু জিএস এস এম ফরহাদ এবং ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেনের নাম বললেও তাদের দেখা না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
তবে, নগর শাখার আমির যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি নতুন কর্মপরিষদ নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের একটি অংশ হেলালীর প্রার্থিতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
চলতি বছরের এপ্রিলে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের মজলিসে শূরার বৈঠকে হেলালীকে প্রাথমিক মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই তার প্রার্থিতা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়। সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর নগর জামায়াত আয়োজিত প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ আলোচনা আরও জোরালো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও ট্রল পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদকে চট্টগ্রামের মেয়রপ্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। তবে এস এম ফরহাদ ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের নেতারা এ সম্ভাবনাকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে শামসুজ্জামান হেলালীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখনও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হলে জানানো হবে।
নভেম্বরের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় মহানগর জামায়াত। গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে আগামী দুই বছরের (২০২৭-২৮) জন্য মহানগরী আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর নভেম্বরজুড়ে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলবে। এসব প্রক্রিয়া শেষে মেয়রপ্রার্থীর বিষয়ে দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর জামায়াতের এক নেতা জানান, মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় রুকনদের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের নগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সাথী-সদস্যদের মতামত নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত ছাত্রশিবিরের সাবেক দায়িত্বশীলদের পরামর্শ নেওয়া হতে পারে। এসব মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমীরে জামায়াতের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
সাবেক সাথী-সদস্য সম্মেলন চোখ খুলে দিয়েছে
সাবেক সাথী-সদস্য সম্মেলনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সম্মেলনে উপস্থিতির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে ছিলেন-জামায়াতের সঙ্গে সক্রিয় বা রোকন হয়েছেন কে কে? হাত তুলতে বলা হলে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উপস্থিতি হাত তুলেছিলেন। তখন মঞ্চে উপস্থিত জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আফসোসের সুরে মাথা নেড়ে জিহ্বায় কামড় দেন। সাবেক শিবিরকে জামায়াতের শক্তি ধরা হয়। আর তাদের বড় একটা অংশ জামায়াতের চট্টগ্রাম নেতৃত্বের প্রতি এমন অনাস্থা থেকে রুকন না হওয়া সংগঠনটির ভেতরের চিত্র উঠে আসছে।
জামায়াত নিয়ে পর্যবেক্ষকদের দাবী—মুলত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহেরের পর চট্টগ্রাম তিলে তিলে শেষ হয়েছে। দলের ভেতরের কোরাম বা সিন্ডিকেট দলের শক্তিকে ভেতর থেকে ধ্বংস করেছে। যার বাস্তব প্রমাণ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি হাতে নাতে পেয়েছে। সবার নজর এখন আসন্ন চসিক নির্বাচনে।
চসিক নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের মেয়রপ্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত হেলালীই প্রার্থী থাকছেন, নাকি আলোচনায় থাকা অন্যদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেওয়া হচ্ছে-এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
