একক ক্ষমতাবলে ১৭৪টি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন কমিটির সুপারিশ ছাড়াই পৌর মেয়র তোফায়েল এসব ভবনের নকশা অনুমোদন দেন। আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাও আমলে নেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপপরিচালক মো.রিয়াজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলা করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ৫ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার বদলির কারণে রোববার (১ নভেম্বর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা)-২ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এস এম তোফাইল বিন হোছাইন ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি মোট ২৬৭টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন দেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৭ সালের ২২ জুন জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, পৌরসভায় ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন এবং ভবনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মেয়রকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নকশা অনুমোদনের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন মাসে কমিটির অন্তত একটি সভা করার কথা। তবে তোফাইল বিন হোছাইনের দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের সভা হয়েছে মাত্র দুটি। ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই দুই সভায় মোট ৮৯টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। বাকি ১৭৪টি নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কমিটির কোনো সুপারিশ নেওয়া হয়নি। সাবেক মেয়র এককভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব নকশা অনুমোদন দেন। এতে নিজে লাভবান হওয়া বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।

২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর বাঁশখালী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ওই অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগটি সামনে আসে।

আরও খবর