চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ৬ সদস্যের পরামর্শক কমিটি। চুয়েট কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ধাপে ধাপে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার ভিত্তিতে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। এরপর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

পরামর্শক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। কমিটির সদস্যসচিব ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। এ ছাড়া কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।

শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের অবস্থান ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান। তিনি বলেন, “চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির কাছে শিক্ষকদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত নথিপত্র দেওয়ার পাশাপাশি মৌখিকভাবেও তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কমিটি শিক্ষকদের বক্তব্য শুনেছেন। তাঁরা আশা করছেন, আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হবে। এর মধ্য দিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করছেন।”

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

মতবিনিময় শেষে ইউজিসির সদস্য ও পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতে এ পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবো, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হয়।”

দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থার পর বুধবার চুয়েটে আংশিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে ক্লাস কার্যক্রম। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি ১১টি বিভাগের কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই প্রতিবাদে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে শুরু হয় কমপ্লিট শাটডাউন। নিয়োগ বাতিল ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বুধবার একটি বিভাগে ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম ফিরলেও উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্লাস চললেও তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর