চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজে রান্নাঘরের সরঞ্জামের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকানো ৫৬৬ গ্রাম সোনা জব্দ করেছে যৌথ অভিযানকারী দল। এ ঘটনায় মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা সোনার বাজারমূল্য এবং কাস্টমস কর ফাঁকি রোধে নির্ধারিত রাজস্ব মিলে এর পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে তল্লাশি চালিয়ে চারটি সোনার বার (দণ্ড) ও এক জোড়া সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ শাখা জানায়, এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ ফ্লাইটযোগে শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছান কামরুল ইসলাম। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাঁর ব্যাগেজ স্ক্যানিংকালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নজরদারিতে পড়েন তিনি। পরে ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল তাঁর লাগেজ তল্লাশি করে।

তল্লাশির একপর্যায়ে ব্যাগেজে থাকা একটি নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডিং যন্ত্র এবং বাসন রাখার স্ট্যান্ডের (র‍্যাক) ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি সোনার বার পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ওই চার বারের ওজন ৪৬৬ গ্রাম। এ ছাড়া ওই যাত্রীর দেহ তল্লাশি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ঘেঁটে ১০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া সোনার চুড়িও উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা সোনার মোট ওজন ৫৬৬ গ্রাম।

আটক মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, উদ্ধার করা সোনা আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চোরাচালান আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর আটক যাত্রীকে পতেঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সোনা চোরাচালান ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কড়া নজরদারি ও যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর