জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ভাঙ্গতে চাওয়া ব্যক্তিরা কে, কোথায়?
চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউজ, যেখানে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে ১৯৮১ সালে প্রাণ হারিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এর দেয়ালে এখনো বিদ্যমান রয়েছে রক্তের দাগ থেকে শুরু করে বুলেটের চিহ্ন। তাঁর সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ১৯৯৩ সালে ১২টি গ্যালারী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল— জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। যেখানে সংরক্ষিত আছে জিয়াউর রহমানের জীবন, শাসনামলের নানা স্মৃতিচিহ্ন,ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন।
কিন্তু ২০২২ সালের ৮ মার্চ চট্টগ্রামের কিছু সাংবাদিক, আবৃত্তি শিল্পী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেন জাদুঘরটি উচ্ছেদ করতে। জেলা প্রশাসক-বিষয়টি তার এখতিয়ারে নয় জানিয়ে বলেন-জিয়া স্মৃতি জাদুঘরটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আবার জাদুঘরের ভেতরে যেসব সামগ্রী রয়েছে-সেগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তিনি এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন বলে আশ্বস্থ করেন।
এ সংক্রান্ত দৈনিক আজাদীতে খবর ছাপানো হয়েছিল—‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বন্ধের দাবি, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি’ শিরোনামে। খবরে বলা হয়-স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইতিহাস পাঠে সবাই জানেন জিয়াউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার মদদ দাতা। তাই চট্টগ্রামের মানুষ তার নামে সরকারি অর্থে জাদুঘর পরিচালনা বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের আদর্শ পরিপন্থী বলে মনে করে। এ অবস্থায় অনুরোধ জানাচ্ছি এই জাদুঘরটি বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নগর সভাপতি আমিনুল হক বাবু।
সাংবাদিক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন-কামরুল হাসান বাদল, শুকলাল দাশ ও কমল দাশ।
এছাড়াও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, কবি আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী, বাচিক শিল্পী মিলি চৌধুরী ও মুজাহিদুল ইসলাম।

এরা কে কোথায় আছে?
সাংবাদিক শুকলাল দাস আছেন দৈনিক আজাদী পত্রিকায়। কামরুল হাসান বাদল আছে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় আর কমল দাশ প্রতারণার জন্য সর্বশেষ ভোরের কাগজ থেকে চাকরি হারিয়ে ফ্রিলান্সিং করেন। কমল বিএনপির এক নেতার আর্থিক সহযোগিতায় ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। শুকলাল দাসের রয়েছে চট্টগ্রাম নিউজ নামের একটি অনলাইন পোর্টাল। শুকলালের অনলাইনে বিএনপির কয়েকজন নেতা আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে। অপর দিকে কামরুল হাসান বাদলকে নিয়ে হাসিনার আরেক দোসর রাশেদ রউফ সম্প্রতি অনুষ্ঠান করতে চাইলে জনতার প্রতিরোধে সেটি স্থান পরিবর্তন হয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তানা চট্টগ্রাম একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়।
অপর দিকে—সাইফুল আলম বাবু, আমিনুল ইসলাম পলাতক হলেও দিব্যি বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে রয়েছেন-আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী, মিলি চৌধুরী ও মুজাহিদুল ইসলাম। মুজাহিদুল ইসলামের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মঞ্জে দেখা যায়, মোদাচ্ছেরের সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিএনপি নেতাদের দেখা যায়। ১৫ আগস্ট ২০২৪ চেরাগীতে মোমবাতি জ্বালাতে আসলে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায় না।
এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ইউনুস, আমিনুল ইসলাম বাবুরা ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ছাত্রদল, যুবদল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা এদের হায়েনা আখ্যা দিয়ে বিচারের আওতায় আসার দাবী তুলেছেন।
