বিপিসি—যেন চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের ‘সাম্রাজ্য’
২০১৯ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে (বিপিসি) উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন আহম্মদুল্লাহ্। তবে তার নিয়োগ নিয়ে নানা কানাঘুষা রয়েছে। জানা যায়, তিনি এই চাকরি পান বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের আশীর্বাদে। কথিত আছে, মো. সামছুর রহমানের একমাত্র মেয়ের গৃহশিক্ষক হিসেবে তার সঙ্গে স্নেহঘন সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেই সুবাদেই বিপিসিতে চাকরি বাগিয়ে নেন আহম্মদুল্লাহ্। মো. সামছুর রহমান ও মো. আহম্মদুল্লাহ্ দুজনই বরিশাল অঞ্চলের বাসিন্দা।
বিপিসিতে নিয়োগের পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার উত্থানের পেছনে আরও রয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয়। আহম্মদুল্লাহ্ নিজে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার দিবাকর কাঠি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন। চাকরি পেতে তিনি জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রত্যয়ন পত্র। যেখানে ঝালকাঠির ১০নং নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিম শাহ তাকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ও রাজনীতিতে জড়িত বলে প্রত্যয়ন করেন। এই রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে বিপিসিতে প্রবেশের পর তিনি দানবের মতো ক্ষমতা অর্জন করেন।
তার শ্বশুর ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রভাবশালী নেতা কালো বিড়ালখ্যাত রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পিএস। সেই পথে হাটা শুরু করেন তিনিও। মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসিতে চেয়ারম্যানের পিএস পদে বসেন। বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের পদ হলেও বিপিসির প্রবিধানমালা পাত্তা না দিয়ে উপব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) হয়েও পিএস পদ দখল করে আছেন বছরের পর বছর।
বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস পদে বসে আহম্মদুল্লাহ্ গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। আওয়ামী লীগ এবং নিজের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস থাকায় বিপিসিকে দুর্নীতির আতুর ঘর বানিয়ে অনৈতিকভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ সংগ্রহ করেছেন। তিনি কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ কিনে গোপন লকারে মজুদ করেছেন।
রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, জমি ও গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনেছেন। মিরপুরে দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে তার নামে। কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন। স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ।
তার প্রভাব ও ক্ষমতার কাছে হার মেনেছেন বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদও। দুর্নীতির দায়ে তাকে ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস পদ থেকে সরিয়ে অফিস আদেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়।
কিন্তু একদিন পরই সেই অফিস আদেশ বাতিল করিয়ে মো. আহম্মদুল্লাহ্ স্বপদে ফিরে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর বদলির বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ৭ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একই পদে অবস্থান করছেন।
এছাড়াও, বিপিসির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ হওয়া গাড়ি (জীপ ও কার) তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ আছে। সেই সময়ে তিনি নিজে প্রাথমিকভাবে গাড়ির প্রারাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও, তার এই ব্যবহার নিয়ে বিপিসির অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকৃত গাড়ির নাম্বার ১১-৩২৬২ এবং ৯৬১৪।
কথিত আছে, মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসিতে যা চান তাই করেন। তিনি এতই ভয়ঙ্কর যে, তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খোলার চেষ্টা করলে বদলি সহ চাকরি থেকেই বিতাড়িত হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
বিরাগভাজন হওয়ায় বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসের ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিউল ইসলামকেও বিতাড়িত করা হয়। ওই পদেই দায়িত্ব দেয়া হয় পদ্মা অয়েলের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামানকে, যিনি বরিশালের বাসিন্দা।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবস্থান পোক্ত করতে আহম্মদুল্লাহ্ জ্বালানী সেক্টরে বরিশালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পছন্দের জায়গায় পদায়ন করছেন। বরিশাল অঞ্চলের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তিনি বিপিসি চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং ঢাকার অফিস-রেস্ট হাউসে পদায়ন করে রেখেছেন।
এছাড়াও, বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং বিপিসির অধীনস্থ কোম্পানির ডিপোতে আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীদের চাকরি দিয়ে সবকিছু তার তত্ত্বাবধানে রেখেছেন মো. আহম্মদুল্লাহ্।
বিপিসি লিয়াজো অফিসে স্থায়ী ও অস্থায়ী সব স্তরের কর্মীকে বরিশাল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন, যাতে করে তার অন্ধকার সাম্রাজ্যে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ফুপাতো ভাই মো. মিরাজকে পদ্মা অয়েলের বরিশাল বার্জ ডিপোতে চাকরি দিয়েছেন।
বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আহম্মদুল্লাহ্ ঢাকা লিয়াজো অফিসে অঘোষিত ক্যাশিয়ার হিসেবে রেখেছেন বিপিসির আরেক কর্মকর্তা, উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. আশিক শাহরিয়ারকে। আশিক শাহরিয়ারও তার নিজ জেলা বরিশাল-এর বাসিন্দা। স্বত্বেও, একই নিয়োগ ও নিয়মে তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে বিপিসিতে যোগদান করেন।
তার যোগ্যতা না থাকায় এসিএআর-এ কম নম্বর পেয়েছিলেন আশিক শাহরিয়ার। বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ তাকে পদোন্নতি দিতে চাইলেও দেননি। কিন্তু পিএস মো. আহম্মদুল্লাহ্ নিজের ক্ষমতায় ৩ বছর ১৭ দিনে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আশিক শাহরিয়ারকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিপো ও পার্টির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন আহম্মদুল্লাহ্। পাশাপাশি তিনি বিপিসি টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য এবং প্রোমোশন বাণিজ্য এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. আহম্মদুল্লাহ্ চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে অর্থ আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেস্ট হাউজে নামে-বেনামে ভুয়া বিল বানিয়ে পদ্মা অয়েলের সহকারী ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান ও পদ্মা অয়েলের ঢাকার ডিজিএম মজিবুর রহমানের মাধ্যমে বিল উত্তলন করে অর্থ ভাগাভাগি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মো. আহম্মদুল্লাহ্ নিজের প্রভাব খাটিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে বিটুমিন, ক্রুড অয়েল এবং ডিজেলের মতো পণ্য আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দেন, বিপিসির অন্যান্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায়।
বিগত সময়ে, দুদকের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নেন।
এছাড়াও, মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসির অধীনস্ত কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোয়ারা নিয়ে পদোন্নতি, বদলি ও বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্টে জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানি সমূহের বার্ষিক ৫ শতাংশ মুনাফার অনুমোদন এবং কোম্পানির নিয়োগ বিধির তফসিলের তৃতীয় শ্রেণীর বিষয় পরিবর্তনের জন্যও মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তিনি। মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসির অধীনস্ত কোম্পানি সমূহের ডিপো ইনচার্জদের বদলির হুমকি দিয়ে মাসভিত্তিক মাসোহারা গ্রহণ করেন বলেও জানা গেছে।
মো. আহম্মদুল্লাহ্ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন বিল, টিএ/ডিও বিল, জ্বালানি বিল বাবদ বিপিসি থেকে নিয়েছেন ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা।
এছাড়াও, দৈনিক ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার জন্য বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল আহসানকে খুশি করার নামে দুইটি এসির দাম বাবদ এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন মো. আহম্মদুল্লাহ্। এই লেনদেনের ব্যাংক প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিপিসির সব নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির সকল নিয়োগ-বাণিজ্যের মূল হোতা তিনি। বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার ভয়ে তটস্থ থাকায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকেও বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বিপিসিতে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বার্তা বাহক পদে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বিপিসিতে নিয়োগ দেন শাওন নামের একজনকে। পরবর্তীতে এটি জানাজানি হওয়ায় এবং তৎকালীন পরিচালক (অপারেশন ও পরিদর্শন) খালেদ আহমেদ-এর তদন্ত রিপোর্টে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ ও দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হয়।
ঐ নিয়োগে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে বার্তা বাহক পদের জন্য শাওনের কাছ থেকে নগদ অর্থ ঘুষ গ্রহণ করে বিপিসিতে চাকরির সুযোগ দিয়েছেন আহম্মদুল্লাহ্।
মো. আহম্মদুল্লাহ্ বিপিসিতে যোগদানের পর বিপিসির ব্যাংক হিসাবের এফডিআর ও এসএনডি হিসাবে তার পছন্দনীয় ব্যাংকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি করেছেন। তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি দিয়ে ব্যাংকসমূহকে এফডিআর ও এসএনডি হিসাবে বিপিসির কোটি কোটি টাকা জমা রাখতেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ এস আলমের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে এস আলমের ব্যাংকসমূহে বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা এসএনডি ও এফডিআর হিসাবে জমা করেন। এসব ব্যাংকের এসএনডি ও এফডিআর হিসাবে সর্বশেষ জমাকৃত প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিপিসি এখনো তুলতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেসরকারি ব্যাংকে এলসি’র অতিরিক্ত অর্থ জমা, মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, বেসরকারি রিফাইনারী থেকে মাসোহারা গ্রহণ এবং বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
মো. আহম্মদুল্লাহ্ এসপিএম প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন প্রকল্পসহ বিপিসির চলমান প্রকল্প থেকে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য এবং প্রকল্পের জন্য শ্রমিক, কর্মচারী নিয়োগে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও, তিনি বিপিসির অধীনস্ত বিভিন্ন কোম্পানি থেকে গাড়িসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ভোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেসরকারি রিফাইনারীসমূহ থেকে লাখ লাখ টাকা মাস ভিত্তিক মাসোয়ারা গ্রহণ করেন।
বিপিসির ইস্টার্ণ রিফাইনারীর যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে প্রতি বছরে ৭০-৭৫টি এলোকেশন অনুমোদন দিয়ে বিপিসির শত শত কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করে মোটা অংকের মাসোহারা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ইস্টার্ণ রিফাইনারীর প্রসেসিং ফি থেকেও মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান হলেও তা প্রকাশ পায়নি। তবে সম্প্রতি সম্পদের হিসাব বিবরনী দুদকে জমা দিয়েছেন মো. আহম্মদুল্লাহ্।
