বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক পদে যোগ দিলেন কামাল উদ্দিন সবুজ
আজীবন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার কামাল উদ্দিন সবুজ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর বাসসের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘পেশাগত অঙ্গীকার, শৃঙ্খলা ও সততার সঙ্গে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’
বুধবার (৮ এপ্রিল) তিনি এ পদে যোগদান করলেন। এর একদিন আগে তাঁকে সরকার এই পদে নিয়োগ দেন। প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় বাসসে দায়িত্ব পালন করা কামাল উদ্দিন সবুজ সাংবাদিক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, জাতীয় সংবাদ সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যতদিন তিনি এখানে থাকবেন সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকবেন।
এর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংবাদ সংস্থার বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করতে গেলে বাসসের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সরকার ৭ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কামাল উদ্দিন সবুজকে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।
সাংবাদিক মহলে সবুজ নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার। প্রায় ৪০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ৩১ বছর বাসসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি জাতীয় বার্তা সংস্থাটির নিউজ এডিটর হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ।
বাসস থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি দৈনিক দেশ রূপান্তরে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং সর্বশেষ নিয়োগের আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাসসে কর্মরত অবস্থায় তিনি রিপোর্টিং টিমেও দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রায় ১০ বছর ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ কভারেজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাসসে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের সংবাদ কভার করেন।
এ সব সফরে নেলসন ম্যান্ডেলা, বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটন, রাজীব গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, নওয়াজ শরিফ, ড. মাহাথির মোহাম্মদ, হু জিনতাও, ওয়েন জিয়াবাও, হোসনি মোবারক, সুহার্তো, মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী, বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি ও কফি আনানসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।
কর্মজীবনে ব্রুনাইয়ের সুলতান, কাতারের আমির এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রপ্রধান ও শাসকদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়।
তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের দুইবার সভাপতি ও দুইবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি টেলিভিশন ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে নিয়মিত মতামত দেন এবং সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে পেশাগত বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের পরামর্শদাতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
তিনি ১৯৮৫ সালে অধুনালুপ্ত ডেইলি নিউজ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)-এ কাজ করার পর তিনি বাসসে যোগদান করেন।
তিনি ফেনী শহরের ডাক্তার পাড়ায় তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সুলতান আহমেদ মজুমদার ও মাতার নাম জেবুন নাহার বেগম। তাদের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া গ্রামে।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একই বিষয়ে ১৯৮৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
