জাতির মর্যাদা রক্ষায় শ্রমিক জনতাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনায় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, জাতির মর্যাদা রক্ষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিক জনতাকে সোচ্চার হতে হবে। ভাষা আন্দোলনের মূল শিক্ষা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রাম—আজ সেই চেতনাকে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।
তিনি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব-এ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল কেবল ভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন নয়; এটি ছিল বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক দমননীতির বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—জাতির মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
তিনি বলেন, মাতৃভাষা হচ্ছে জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি—এ বাস্তবতা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে মাতৃভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, ভোগবাদী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় জাতিসত্তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ভাষা দিবসের চেতনা ধারণ করে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন থেকে চব্বিশের ৩৬শে জুলাই আমাদের ইতিহাসে এক অন্যন্য অর্জন। জুলাইয়ের চেতনা হল ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। জুলাইয়ের চেতনাকে ভূলণ্ঠিত হলে শহীদের আত্মত্যাগ বিপন্ন হবে। আমাদেরকে জুলাইকে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভাষার স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। যদি মানুষের কথা বলার অধিকার সীমিত করা হয়, তবে ভাষার মর্যাদা রক্ষা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত না হলে ভাষা আন্দোলনের চেতনা পূর্ণতা পায় না।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদরা যে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজকের প্রজন্মকে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস গভীরভাবে অধ্যয়ন ও তার আদর্শ ধারণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল। আজও শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভাষার মর্যাদা রক্ষা মানে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষা। শ্রমিক সমাজকে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় সঞ্চালনা করেন ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক চসিক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুর রহমান কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের নগর সহ-সভাপতি মকবুল আহম্মেদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার ও পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
