জঙ্গল সলিমপুরের ‘মুকুটহীন সম্রাট মশিউর’ গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পতন হওয়া ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ ছিন্নমূলের ‘মুকুটহীন সম্রাট মশিউর’কে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ৩০টির বেশী মামলা রয়েছে। মশিউর মূলত পাহাড়ের ওই বিশাল এলাকা নিজস্ব বাহিনী দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন। দখল ও চাঁদাবাজিই ছিল তাঁর আয়ের মূল উৎস।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালায়। ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে মশিউরকে আটক করা হয়েছে।
প্রায় দুই যুগ আগে জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতির প্রধান নিয়ন্ত্রককদের একজন এই মশিউর। তিনি ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর সাধারণ সম্পাদক। পাহাড় কেটে সেখানে ৪০ হাজার মানুষের এক অবৈধ জনপদ তৈরি করেছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, মশিউরের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই কেবল সেখানে বসবাসের অনুমতি মিলতো। দুর্গম এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে বড় বড় সন্ত্রাসীরাও সেখানে আশ্রয় নিত। সম্প্রতি সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশের যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসীরা ছিন্নমূল ছাড়ে।
জানা যায়, মশিউরের অপরাধের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৭ সালেও একবার র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের সময় তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সে সময় তাঁর বাসা থেকে ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল।
জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি পুনরায় এলাকায় সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। মূলত ২০১০ সালে স্থানীয় সন্ত্রাসী আলী আক্কাস র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকার একক আধিপত্য চলে যায় গাজী সাদেকুর রহমান ও কাজী মশিউরের হাতে।
গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মশিউর রহমানকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
