জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্য হত্যা—আটক ২০
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে চাঞ্চল্যকর র্যাব সদস্য ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলার তদন্তে বড় সাফল্য পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবশেষ পৃথক অভিযানে এজাহারনামীয় আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। এ নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ মিলে সর্বমোট ২০ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলো।
র্যাব জানায়, গত ২৭ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর কবিরহাট, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এবং বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— এজাহারনামীয় ২৯ নম্বর আসামি মো. পারভেজ (৩৫), মো. বেলাল (৩০) এবং ২৪ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম (২৬)।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে যায় র্যাবের একটি দল। সে সময় দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে চার র্যাব সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএডি আব্দুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মামলার অগ্রগতি ও গ্রেপ্তার অভিযান
এই হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব-৭ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এরপর থেকেই ঘাতকদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এ পর্যন্ত র্যাব ১৩ জন এবং জেলা পুলিশ ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার, পটুয়াখালী, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসামিদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারনামীয় আসামিদের পাশাপাশি তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজনদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সর্বশেষ গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
