পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত চলমান থাকলেও অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বর্তমান বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি জটিল হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।’

সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জামায়াত সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তার অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সংসদে প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে তাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে আরও প্রায় আড়াই লাখ (২,৫০,০০০) রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে তাদের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক—সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এবং একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন আরও জোরদার করবে।

আরও খবর