চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম এবং তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার ও তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশী পিস্তল এবং গুলি উদ্ধারের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবীতে তুলেছে তার পরিবার।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী ও নারী উদ্যোক্তা রুমা আক্তার সুচি এ দাবী তুলেন। এর আগে গত বুধবার র‌্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ২টি বিদেশী পিস্তল এবং ৫৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার সংবাদ সম্মেলনে সেই ইকরামের স্ত্রী রুমা আক্তার সুচি বলেন, পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ায় ছোট সাজ্জাদের গুরু ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী আমাদের নানাভাবে ফাঁসাতে চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তার লোক দিয়ে অস্ত্রসহ আমার স্বামী ও গাড়ীর ড্রাইভার আবুল কালাম আজাদকে ফাঁসিয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।

বিষয়টি পুলিশকে আগেই জানিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাজ্জাদ আলী তার লোক দিয়ে আমার স্বামীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা আমরা জানতে পেরেছিলাম। তাই বিষয়টি ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরেই আমরা সিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। পুলিশ ব্যস্ত থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণে সময় লেগেছে। পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে আমার বাসায় ওসি বায়েজিদ এসেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সাজ্জাদের লোকরা অস্ত্র দিয়ে র‌্যাবের হাতে আমার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। ফলে স্থানী থানার ওসির পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করে আমরা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমরা আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীকেই আমরা আমাদের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাই। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের আবেদন, ইকরাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা হোক।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে র‌্যাব চান্দগাঁও ক্যাম্পের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন র‌্যাব-০৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি লিঙ্ক রোডে অস্ত্র বেচা-কেনা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। অভিযানে অস্ত্র বেচা-কেনার সময় ইকরামকে আমরা গ্রেপ্তার করি। তারপর তার দেয়া তথ্যে তার বাসার টিভি সেটের ড্রয়ার থেকে আরও একটি বিদেশী পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করি।

আরও খবর