পাহাড়ি ও বাঙালি-সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাব : মীর হেলাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পাহাড়ি ও বাঙালি-সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাব। গত ১৭ বছরে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীরা জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অবদান মূল্যায়ন করেই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মীর হেলাল পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। দায়িত্ব পাওয়ার পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজ জেলা চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর চট্টগ্রাম অবহেলিত ছিল, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আক্ষরিক অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নিয়েছি, তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ তারই একটি অংশ। চট্টগ্রামের মধ্যে হাটহাজারী আসনে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছি, এই জনপদের মানুষ আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হবে জানিয়ে মীর হেলালী বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে। যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পাঁচ বছরের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজ এলাকা হাটহাজারীতে অপরাধ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে এক চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না, আইন অনুযায়ী সবার বিচার নিশ্চিত করা হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবো। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক বিভেদ রাখা হবে না। হাটহাজারীতে ১৭টি সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি আরও প্রায় ২৭টি দপ্তর রয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করলে ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান সম্ভব।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বিষয়ে মীর হেলাল বলেন, সারাদেশের ৪ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এখানে দল, ধর্ম, গোত্র বা শ্রেণিভেদে কোনো বৈষম্য থাকবে না। হাটহাজারীতে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সচল-এই চার শ্রেণিতে তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে। আমি আগে যেমন সাধারণ মানুষ ছিলাম, এখনো তেমনই আছি। হাটহাজারীর সন্তান হিসেবে মানুষের সেবায় কাজ করে যেতে চাই।
