আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী—বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ।

এর আগে তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ছিলেন। বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন তাঁকে বিএনপির রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন বলে একাধিক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

আমির খসরুর পিতা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী, যিনি নবী চৌধুরী নামেও পরিচিত। তিনিও ছিলেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
নবী চৌধুরী ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের আইনপরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং-সীতাকুন্ড থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে গণ-যোগাযোগ মন্ত্রী এরপর ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ‘শান্তি কমিটি’র সভাপতি ছিলেন।

খসরু ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনের পর ৯৬ সালের দুটি নির্বাচন এবং সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার ভোটারদের অভিযোগ তিনি এমপি হওয়ার পর এলাকার সাধারণ মানুষের খোঁজ খবর রাখেননি। দুই যুগ পর তিনি পতেঙ্গার মাটিতে পা রেখেছেন এবার।

এবার খসরুর সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রচারণায় যারা গেছেন তাদের এক জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। থানা পর্যায়ের এক নেতা চট্টগ্রাম সময়কে বলেন, মাঠে নেমেই খসরু টের পেয়েছেন কর্ণফুলী নদীতে অনেক পানি গড়িছে। তাই প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে তিনি এলাকায় আর যান নাই। সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, মিরসরাই আল লালদীঘিতে সমাবেশ করে নিজের সময় ব্যয় করেছেন।

বিএনপির ওই নেতার দাবী, খসরু চট্টগ্রাম-১১ আসনে নিজের অবস্থা খারাপ বুঝেই চট্টগ্রাম-১০এ সরে এসেছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন যুদ্ধে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েও বিএনপিতে নবাগত সাঈদ আল নোমানের কাছে হেরে যান। এতেই মূলত খসরুর মনোবলে চির ধরে। আমারা উনাকে যেমন উচ্ছ্বাসের দেখার কথা তেমন দেখছি না।

জানা গেছে, খসরু বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় চট্টগ্রাম—১০ আসনের প্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই আসনের কেন্দ্র কমিটি পর্যন্ত গঠন করেছিলেন। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর খসরুর প্রার্থীতা চূড়ান্ত হয় চট্টগ্রাম—১১ আসনে। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম—১১তে নির্বাচন না করলে খসরুকে এবার নির্বাচনী মাঠে দেখা যেতো না। এক প্রকার বাধ্য হয়েই তিনি নির্বাচনী মাঠে আছেন।

খসরু ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলী জোটের মন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন আওয়ামী লীগের এমএ লতিফের কাছে। লতিফ এমপি হওয়ার আগে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। এবারও খসরুর প্রতিদ্বন্দ্বী একজন সাবেক কাউন্সিলর। এই আসনে সেই সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলম একজন স্থানীয় বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম—১১ আসনের ভোটারদের একটা অংশ খসরুকে বহিরাগত ভাবছেন। যাকে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার মানুষ তার চেহারা দেখারও সুযোগ পাবেন না বলে চাওর আছে। কারণ গত করোনা মহামারিতে খসরুকে কেউ তাঁর নির্বাচনী এলাকা দেখেননি বলে অভিযোগ আছে।

তদুপরি ৫ আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ব্যাপক চাঁদাবাজী, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মামলায় জড়িয়ে টাকা আদায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ নানান অপকর্মে এলাকায় বিরূপ পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিউল আলমের।

সর্বশেষ ফ্রান্স প্রবাসী অনলাইন এক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য্য খসরুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ঢাকার প্লট দখলের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি খসরুকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছেন। সে বিষয়ে এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত খসরুর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের রায়ই চূড়ান্ত কথা। দেশবাসীর নজর তাই বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থীর আসনের ওপর। ২৬ বছর পূর্বের খসরু বিজয়ী হন নাকি নতুন মুখ শফিউল আলম বিজয়ী হন তার অপেক্ষায় দেশবাসী।

আরও খবর