আটক করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর অচলের অন্যতম হোতা মো. ইব্রাহীম খোকনকে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব-০৭এর একটি দল। পরে তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ইব্রাহীম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। এনসিটির ইজারা বাতিলের দাবিতে চলমান ধর্মঘট স্থগিত করার ঠিক পর দিনই তাকে আটক করা হলো।

​খোকনকে আটকের বিষয়ে সন্ধ্যায় কোনো তথ্য না দিলেও গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানান, র‍্যাবের একটি দল ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় সোপর্দ করেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। নির্বাচনের বিএনপির ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা থেকে বিএনপি এই আন্দোলনকে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বিস্তৃত করে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা আসার পর সোমবার এই আটকের ঘটনা ঘটল।

​ইব্রাহীম খোকনকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারা। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রবিবার বন্দরের পাঁচ শ্রমিককে গ্রেপ্তারের পর আজ ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে ইব্রাহীম খোকনসহ আটক সকল শ্রমিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- এ এম নাজিম উদ্দিন ও কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার (জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল), তপন দত্ত (টিইউসি), এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান (স্কপ), খোরশেদুল আলম, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, নুরুল আবসার তৌহিদসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতা।

আরও খবর