নিরাপত্তা ইস্যুতে ভাঙ্গতে হচ্ছে প্যাসিফিক জিন্সের পুরোনো ভবন
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের একটি কারখানার পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে প্রতিষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে কর্মী মুক্ত করা শুরু করায় প্রথম ধাপে ৫০৯ জন শ্রমিক চাকরির অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
শিল্প পুলিশ-৩ (চট্টগ্রাম)-এর পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, ভবনটি বয়সের কারণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং প্রায় এক বছর আগে জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদনে আরসিসি ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। নিরীক্ষার সময় ভবনটি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণেও ব্যর্থ হয়, যার ফলেই এটিকে একটি আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চাকরি অনিশ্চয়তার মাঝেও শ্রমিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন চাকরি পাওয়ার পথ সুগম করতে শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা এবং অভিজ্ঞতার সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক জানান, শ্রমিকরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের পাওনা পাবেন এবং ইপিজেডের ভেতরের অন্যান্য কারখানায় তাদের চাকরি খোঁজার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি নতুন ভবনে উৎপাদন পুনরায় শুরু হলে এই অব্যাহতিপ্রাপ্তরা নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। নতুন এই নির্মাণকাজ শেষ হতে এবং উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। নতুন অবকাঠামো ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে
এদিকে, প্যাসিফিক জিন্স পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুঞ্জনের জবাবে কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এম তানভির সেগুলোকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, কিছু ফেসবুক পোস্ট বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে এবং সিইপিজেড-এ তাদের ১০টি ইউনিট রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ কর্মরত আছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ‘প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড’ কারখানাটি চালু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে।
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, বলে আশা করা হলেও, সাময়িক এই বিচ্ছেদ বেদনার সাক্ষী হয়ে রইল সিইপিজেডের এই পুরোনো কারখানা প্রাঙ্গণ।
