অটোরিকশাচালক মোঃ আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইকৃত রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত রিকশার ৩টি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোঃ রাসেল (২৫), ইমরান হোসেন আপন (২৩), মোঃ বাবলু (২৫), মোঃ আকতার হোসেন (৩৬), মোঃ মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মোঃ আলাউদ্দিন (২৫)। আসামিদের একজনকে ৭ অক্টোবর এবং অপর ছয়জনকে ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত হাটহাজারীর চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি জানান জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, গত ১ অক্টোবর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।

তদন্তের একপর্যায়ে ভিকটিমের বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে শুরু করে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিকটিম ও অভিযুক্তদের চলাচলের পথ শনাক্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, আসামিরা বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁওয়ের সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ পাশের বিলে ফেলে দেয়। এরপর অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে সেটি রাখা হয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রিকশাটি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

আরও খবর