চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে শনিবার (২৫ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। দেশের বিভিন্ন এলাকার ১২০ জন বলী নামবেন এবারের প্রতিযোগিতায়। বলীখেলা উপলক্ষ্যে নগরীর লালদীঘির চারপাশ ঘিরে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বসেছে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আগত দোকানিরা বসেছেন নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে।

এসএসসি পরীক্ষা চলার কারণে ২৬ এপ্রিল ভোরে মেলা শেষ করতে হবে। মেলা উপলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

লালদীঘি মাঠকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। দোকানগুলোতে কী নেই ? মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনা থেকে শুরু করে ফুলদানি ও পুতুল, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি নানা আসবাবপত্র, হাতপাখা, মাছ ধরার পলো, ডালা, কুলো, গাছের চারা, মুড়ি-মুড়কি, শীতল পাটি, দা-বঁটি, ছুরিসহ গৃহস্থালির সব ধরনের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে।

মেলার প্রথম দিনে আজ শুক্রবার লালদীঘি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আন্দরকিল্লা থেকে কোতোয়ালি মোড়, জেল রোড, কে সি দে রোডসহ আশপাশের সড়কের ফুটপাতের ওপর দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা বসিয়েছেন। কেউ কেউ দোকান সাজাচ্ছেন। কেউ বিক্রির জন্য আনা মৃৎশিল্পের নানা পণ্যে রং করছেন। মাটির তৈজসপত্র, ঝাড়ু, হাতপাখা, শীতলপাটি, দা-খুন্তি, প্লাস্টিকের সামগ্রী-ফুল, মণ্ডা-মিঠাই, গৃহসজ্জার সামগ্রী, গাছের চারা, তামা-কাঁসা-পিতলের সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, বেতের আসবাব, বাদ্যযন্ত্র, দোলনা, মাছ ধরার জাল, মোড়া, পিঁড়ি, জলচৌকিসহ কী নেই এই মেলায়? নগরবাসী সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন মেলার জন্য। কারণ এখানেই মিলে গৃহস্থালির সব জিনিসপত্র।

দোকানিরা জানান, দুই দিনব্যাপী মেলা হলেও তারা প্রতিবছর মেলার দুই দিন আগে থেকেই দোকান সাজাতে শুরু করেন। চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান এই মেলা থেকে পণ্য কিনতে লোকজন এক বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন। কারণ এখানে একসঙ্গে যত ঐতিহ্যবাহী পণ্য পাওয়া যায়, স্বাভাবিক সময়ে এসব পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বক্সিরহাট এলাকার স্থানীয় আব্দুল জব্বার সওদাগর নগরীর লালদিঘী মাঠে আয়োজন করেন কুস্তি প্রতিযোগিতা। যা সময়ের পরিক্রমায় জব্বারের বলী খেলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। প্রতিবছর বৈশাখের ১২ তারিখে লালদিঘীর ময়দানে বলী খেলা হয়।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল জানান, এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১০৮ জন বলী অংশ নেবেন। বলী খেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

আরও খবর