তেলের পাম্পে পাম্পে যখন সাধারণ মানুষের হাহাকার আর দীর্ঘ লাইন, ঠিক তখনই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ট্যাংকার লুকিয়ে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি বড় ট্যাংকারে এই বিপুল পরিমাণ তেলের মজুত পাওয়া যায়।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, জব্দকৃত তেলের এই বিশাল ভাণ্ডার থেকে ড্রামে ভরে চোরাই পথে খোলা বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করা হতো। পতেঙ্গা এলাকা থেকে ইতিপূর্বে ৬ হাজার লিটার তেল জব্দের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সীতাকুণ্ডে মিলল এই বড় চালান।

অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে বর্তমানে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। বরং এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় তেল আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। যারা দেশের শান্তিকামী মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করতে চায়, তাদের আমরা ছাড় দেব না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জনসাধারণের মাঝেও একটি প্যানিক কাজ করছে, যার ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—দেশে পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুদ রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেল চুরি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৯৮টি মামলা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফৌজদারহাটের এই চক্রটিকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর