চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা রাজনীতির এক উর্বর ভূমি। এবারও গহিরার তিন সন্তান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগেও তা হতো। তখন সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমান, গিয়াস কাদের চৌধুরী কিংবা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমান আর ফজলে করিম চৌধুরী। এভাবেই সংসদের তাঁদের উপস্থিতি ছিল।

এবার তিনজনই বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচিত সাঈদ আল নোমান।

রাউজান আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী একই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের একজন রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ৫ম স্পিকার ছিলেন।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর পিতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীও বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি আমৃত্যু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন গুম করে রাখার অভিযোগ আছে। তিনি গুম কমিশনের অভিযোগও করেছেন এবং সেটির তদন্ত চলমান আছে।

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের গ্রামের বাড়িও গহিরা। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। আব্দুল্লাহ আল নোমানের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল হারুনও সংসদ সদস্য ছিলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর গ্রামের বাড়িও গহিরা। তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর বাড়িও রাউজান গহিরা। তার পিতা ফজলুল কবির চৌধুরী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা, প্রাদেশিক আইন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন।

আরও খবর