মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা পশ্চিমাদের ঘোষিত শত্রু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার প্রথম দফাতেই নিহত হয়েছেন। রোববার দ্বিতীয় দিনেও হামলা অব্যাহত থাকে, কারণ দুই দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাম বিচ থেকে এএফপি জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রোববার ভোরে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮৬ বছর বয়সী ওই ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর ঘোষণা দেন এবং তাকে ‘ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন না হওয়া পর্যন্ত হামলা বন্ধ হবে না এবং তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র নামানোর আহ্বান জানান।
ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের একক বৃহত্তম সুযোগ।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একইভাবে ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটাই আপনাদের সময়—ঐক্যবদ্ধ হয়ে শাসনব্যবস্থা উৎখাত করুন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।’
ইরান পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে আবুধাবিতে অন্তত দুইজন এবং তেল আবিবে একজন নিহত হন। উপসাগরীয় আরব রাজতন্ত্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানি এবং ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা ও নাতনিও নিহত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য জীবিতদের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সাহসী সৈনিক ও মহান ইরানি জাতি আন্তর্জাতিক অত্যাচারীদের অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেবে।’
