বাকলিয়ায় জামায়াত প্রার্থীকে অবরুদ্ধের চেষ্টা বিএনপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের একটি কেন্দ্রে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন মোজাহেরুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট পরিদর্শনে গেলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হককে ঘিরে ‘মব’ সৃষ্টি বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডা. একেএম ফজলুল হক জানান, সকাল থেকে তিনি অর্ধশতাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। দুপুরে মোজাহেরুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ও ভোটারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বের হওয়ার সময় তিনি বাধার মুখে পড়েন।
তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় দোতলা ও তিনতলা থেকে একদল লোক নিচে নেমে এসে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা ‘জিয়ার সৈনিক এক হও’ এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে গেটে লাথি মারে ও গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ তোলে যে, জামায়াত প্রার্থী ভোট ডাকাতি করতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন।
ডা. ফজলুল হক বলেন, “তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং গেট ভাঙার চেষ্টা করে। আমি পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলি এবং তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দিই। পরে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়।”
এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়ী করেন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “সারা জাতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী মিলে যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করছে, তখন তারা (বিএনপি) মব তৈরি করে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে। এরা ফ্যাসিবাদের দোসর এবং গণতন্ত্রের শত্রু। এই ঘটনার দায় তারেক জিয়া ও তার স্থানীয় প্রার্থী আবু সুফিয়ানকে নিতে হবে।”
শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
