বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।

এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

এ দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজার তারেক রহমান এবং তাঁর নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রথমে তিনি বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর পর্যায়ক্রমে বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে মন্ত্রী ও পরে ৪টা ২৬ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

শপথ গ্রহণকারী মন্ত্রীরা হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।

প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যরিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভা (পার্লামেন্ট) স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়তিস্সাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন- অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

সরকার প্রধান হিসেবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও তাঁদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে তাকে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। ঐতিহাসিক স্থানটি প্রায় ১ হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথিতে উপচে পড়েছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

প্রথমে তারেক রহমান জাতীয় সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন।

১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।

আরও খবর