সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষনা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় পাননি উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে আরও ইজিজেড স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান করা হবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তারেক রহমান দুপুর ১২.২০টায় মঞ্চে উঠেন এবং ১২.৫৩টায় তিনি বক্তব্য শুরু করেন। বিসমিল্লাহির রহমানের রাহীম বলে তিনি বক্তব্য শুরু করেন এবং চট্টগ্রামের ভাষায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের জিজ্ঞেস করেন, ‘অনরা ক্যান আছেন ?’ সমবেত জনতা ভালো আছি বলে উত্তর দিলে তিনি তাঁর বক্তব্যে ফিরে যান।
বক্তব্য শুরু করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদান নিয়ে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন,‘বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। দেশের মানুষের কাছে আমাদের দুটি কমিটমেন্ট। বিএনপি যদি সরকার গঠন করে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমি লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন; তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ তরুণ যুবক। যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। দেশের অর্ধেক নারী। নারীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবো। সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রচলন করবো। এই চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে একটি বড় সমস্যা-সেটি জলাবদ্ধতা। এই চট্টগ্রাম শহর চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ সারা বাংলাদেশে খাল-বিল, নদী-নালাগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারী তারিখে আপনাদের সমর্থণের মাধ্যমে সরকার গঠনে সক্ষম হলে, সমগ্র বাংলাদেশে খালকাটা কর্মসূচি চালু করতে চাই। খালকাটা কর্মসূচি, যাতে করে এই দেশ থেকে জলাবদ্ধতা বন্যা সমস্যা সবকিছু আমরা দূর করতে পারি।

বিগত ১৬ বছর ধরে এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে, সেই পরিবর্তন, যে পরিবর্তন এই দেশের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিবে, নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করার সুযোগ দিবে,নিরাপদে রাস্তায় হাঁটার অধিকার দিবে।

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। কোন সে পরিবর্তন যেই পরিবর্তনের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে। দেশের মানুষ যেন তার পরিবারের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সুবিধা পায়।

বাংলাদেশের মানুষ আরেকটি পরিবর্তন চেয়েছে। রাজনৈতিক অধিকার ভোটের অধিকার যেটি তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার যাতে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের ছাত্রজনতা সে অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

এই নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দী দল যারাই হোক না কেন, আমরা তাদের সম্পর্কে আপনাদেরকে হয়তো অনেক কথা বলতে পারি। তাদের হয়তো অনেক দোষ তুলে ধরতে পারি। কিন্তু তাতে কি জনগণের কোন উপকার হবে ? আমরা যদি সমালোচনা করার স্বার্থে যদি সমালোচনা করি, দেশের সাধারণ মানুষের কি তাতে কোন উপকার হবে? উপকার হবে না। আমরা যদি সমালোচনাই করি দেশের মানুষের পেট ভরবে? পেট ভরবে না।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা যতবার সরকারে ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। সেজন্যই আমি ১৭ বছর পর যেদিন দেশের মাটিতে পা রেখেছিলাম, সেদিন আমি সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি কথা বলেছি। আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে, দেশের মানুষকে ঘিরে, দেশকে ঘিরে।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জনসংখ্যার অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে তরুণ বা যুবক সমাজের সদস্য। এই কোটি কোটি তরুণ-যুবক সমাজের সদস্য, তারা চায় কাজ, তারা চায় কর্মসংস্থান। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। চট্টগ্রামের মানুষসহ সারা দেশের মানুষ চায় একটি নিরাপদ পরিবেশ। যেই নিরাপদ পরিবেশে তারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। বাণিজ্যিক সুবিধা তারা চায়। মানুষ চায় যে তাদের সন্তানরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে। সেই পরিবেশ তৈরি চায়।

কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হলে, আমাদেরকে কৃষক ভাইদের পাশে, কৃষানী বোনদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সকল কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড নামে একটি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যে কার্ডের মাধ্যমে কৃষক এবং কৃষাণী ভাইবোনেরা ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা তারা পাবে। যাতে করে আস্তে আস্তে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।

চট্টগ্রামে সমতল এবং পাহাড়ের মানুষ একসাথে বসবাস করে। আমরা চাই সমতল এবং
এজন্যই আমি সবসময় একটি কথা বলে থাকি, করবো কাজ গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। কাজেই আমাদের বাংলাদেশকে যদি আমাদের মত সুন্দর করে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে গণতন্ত্রের পক্ষে সকল মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একারণেই শহীদ ওয়াসীম আকরামসহ বহু মানুষ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। তাদের জীবনের মূল্যে অবশ্যই আজকে মানুষের যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।

বিগত ১৫ বছর যেভাবে আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়, সে রকম একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলে সজাগ থাকবেন। সতর্ক থাকবেন যাতে আবার আপনাদের অধিকার কেউ নিতে না পারে। আপনাদের মতের অধিকার, আপনাদের কথা, আপনাদের বেঁচে থাকার অধিকার যাতে আবার হারাতে না হয়।
১২ তারিখে নির্বাচন, ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনের দিন আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, কখন যাবেন ভোট দিতে? তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের জামায়াত পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবে। তারপর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্যজেলার বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

 

আরও খবর