বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল বলেছেন, দেশে সাংবাদিকদের কল্যাণে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। সাংবাদিকদের কিভাবে আরও ভালো রাখা যায়, কিভাবে আরও সম্মান দেওয়া যায় সেই চিন্তাভাবনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু বর্তমানে নয় অতিতেও বিএনপি সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথমবার সাংবাদিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন ঢাকার বুকে। পরবর্তীতে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াও একই ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও সাংবাদিকদের সন্তানদের বৃত্তির চেক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভবনটি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গড়ে ওঠে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রত্যেকটি জমি সাফ কবলা করে দিয়েছিলেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর উদ্যোগে সাড়ে ২২ বিঘা জমির উপর সাংবাদিকদের দ্বিতীয় আবাসন ব্যবস্থা হয়েছিল পল্লবীতে। এটি বর্তমানেও চলমান রয়েছে। সরকারকে সাংবাদিক বান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকদের শুধু অনুদান নয় প্রবীণ সাংবাদিকদের পেনশনও দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এছাড়াও অসুস্থ সাংবাদিকদের হেলথ কার্ড প্রদানের চিন্তাভাবনা চলছে। এভাবে বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের ভালো রাখার নানা কর্মসূচী গ্রহণের কথা ভাবছে। আপনাাদের সহযোগিতা পেলে বর্তমান সরকার সেই কাজগুলো করে যাবে।

তিনি বলেন, আমি আশা করছি সরকার সাংবাদিকদের উন্নয়নে, সাংবাদিকদের জীবনমানের পরিধি সুন্দর করতে যেসব কাজ করা দরকার সেগুলো করবেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের এমডি আরও বলেন, সরকার ভোটারদের হাত থেকে ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। একইসাথে দ্রুত সময়ে আরও যেসব অঙ্গিকার করেছিল সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে, সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচী শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকদেরও কিভাবে সম্মানিত করা যায় সেই চিন্তাভাবনা করছেন। এভাবে ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের সন্তান ও পরিবারের কল্যাণে কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে এবং এই পরিসর আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, এই অনুদান কোন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের অনুদান নয়। এটি হলো যারা লেখালেখি করেন, দেশের জন্য কাজ করেন ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকে একটু সহায়তা করা। কেননা এই পেশায় বিত্তবান হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যেতে। সাংবাদিকদের পেনশন ও হেলথ কার্ড দেওয়ার কথা বিএনপি সরকার ভাবছে। সেইসাথে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করছে সরকার। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও সিএমইউজে যৌথভাবে পেশাদার সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের সাথে কাজ করে যাবে। আমি মনে করি গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে সরকার এই ধারা অব্যাবত রাখবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শাহনওয়াজ বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের অবদান কখনও ভুলতে পারবে না বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ। তিনি জীবনজুড়ে সাংবাদিকদের কল্যাণে দারুণ সব উদ্যোগ নিয়েছেন যা আজও সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকরা সেগুলো ভুলে গেছেন। তারা গত ১৭ বছর ধরে জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের গুপ্তচর বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতো। বেগম জিয়াকে ডাবল সাজা দিলে আনন্দে আত্মহারা হতো, প্রেস ক্লাবে ডুগডুগি বাজাতে মেতে ওঠতো, ক্লাবে, গ্রামে মিস্টি বিতরণ করতো। সেই তারাই আজ বিএনপি সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপিদের চাটুকারীতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা এখনও এতোটাই অতিরঞ্জিত করছে যে বানিয়ে বানিয়ে ইতিহাস বলছে। তাদের ফ্যাসিবাদী শাসককে কাজে লাগিয়ে তাদের অবৈধ পথে অর্জিত অর্থ ৩৪ বছরে শেষ হবে না। তারা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং বেহায়া।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) মো. শরীফ উদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিল্পী, বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, আমার দেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস, সাংবািক রুবেল খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার ৩৯ জন সাংবাদিককে আর্থিক অনুদান ও তাদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।

আরও খবর