হৃদয় হত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্ট সন্ত্রাসী বগা
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী সন্ত্রাসী বগাকে কিশোর গ্যাং সদস্য হৃদয় হত্যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন আমলে নিয়েছেন আদালত। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালত তাকে শ্যোন অ্যারেস্টের আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদনটি শুনানি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক গোলাম নাসিম। তিনি বলেন, হৃদয় হত্যার তদন্তে সন্ত্রাসী বগার নাম উঠে আসে। আমরা বগাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেছিলাম। আদালত আজ শুনানি শেষে আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ—সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামের এক তরুণ নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা বগার নাম না থাকলেও পুলিশ তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পায়। তাকে আসামি করে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করে পুলিশ।
এর আগে ১৭ অক্টোবর চাঁদাবাজির একটি মামলায় বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মাঝে তার দুই ভাইসহ আরও ১২ অনুসারি আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাদেরও কারাগারে পাঠনোর আদেশ দেন।
ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ১০ জুন তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, প্লট দখল, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, পুলিশের ওপর হামলা, কলেজ শিক্ষক ও সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নিজের আস্তানায় নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৩টি মামলা আছে। পুলিশের দাবি, বগা একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় বগাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল পুলিশ। গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে তার অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালান পুলিশ সদস্যরা।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ‘দৈনিক চট্টগ্রাম খবর’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে।
