শেখ হাসিনার রক্তের স্বাদ এখনো মেটেনি—রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ১৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে অসংখ্য মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন। নেতা-কর্মীদের গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার করেছেন। এত রক্ত ঝরানোর পরও তাঁর রক্তের স্বাদ মেটেনি। দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেবে না।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল চেতনা হলো মানুষের গলা ছেড়ে কথা বলার অধিকার এবং যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনো শক্তিই এ দেশের জনগণকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ সড়কসংলগ্ন আলমাসের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেদিন সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় নতুন করে জাগ্রত হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছিল। ৭ নভেম্বর তাই কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্রের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে কাজ করছেন। তিনি মিথ্যা আশ্বাস দেন না; দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান রশিদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।
