শিশু সাহিত্য উৎসবের আড়ালে জড়ো হচ্ছে কারা?
রাশেদ রউফ—চট্টগ্রামে কালচারাল ফ্যাসিস্টদের আইকন। লোকে বলে, হাসিনা আমলে মুজিব, হাসিনা বন্দনা তো তার ইবাদত তুল্য ছিলই, রাসেল বন্দনায়ও কম যাননি রাশেদ। আজাদী পত্রিকাকে ঢাল বানিয়ে এই কালচারাল ফ্যাসিস্ট হাসিনা থেকে ভাগিয়ে এনেছে বাংলা একাডেমি পুরস্কারও।
হাসিনা পালিয়েছে দুই বছরের বেশী সময় অতিবাহিত হয়েছে। রাশেদ রউফ এখনও ভুলতে পারেননি তার পুরোনো প্রেম কিংবা প্রভুদের। শেখ পরিবারের সবার নামে বন্দনা করা রাশেদ রউফ হাসিনা পালানোর পরও কী পরিবর্তন হয়েছে? আসুন তার গত দুই বছরের কাজকর্ম দেখে নিই।

হাসিনার অবৈধ দুই সাংসদ বিচ্ছু শামসু ও মোতাহারের সঙ্গে রাশেদ রউফ দম্পতি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দাতাদের একজন কামরুল হাসান বাদল। একটা সময় স্টুডিও ব্যবসা ছিল বাদলের। দেশে ডিজিটাল ক্যামেরা আসায় স্টুডিও ব্যবসা বন্ধ হয়। বাদল হয়ে যান কবি, প্রকাশ হয় কবিতার বই। দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশে সাহিত্য পাতা সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। পত্রিকার পরিচয়ে হয়ে যান সাংবাদিক! সেই বাদলকে নিয়ে থিয়েটার স্টুডিওতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাশেদ রউফ। পরে প্রতিবাদের মুখে সেটি স্থানান্তর হয় চট্টগ্রাম একাডেমিতে। যে একাডেমিতে মুজিব পরিবারের সব সদস্যদের জন্মদিনে কেক কাটা, মৃত্যু দিনে কাঙ্গালি ভোজ হতো। রাশেদ রউফ নিজে এক ফ্যাসিস্ট, তার হাতে গাড় চট্টগ্রাম একাডেমিকেও বানিয়েছে ফ্যাসিস্টদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র।

ওপারে সমাদৃত মুজিব সেনা আয়েশা হক শিমু
দুই বছরে দেশের সাহিত্য চর্চা, শিশু সাহিত্য চর্চা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ পন্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন কলকাতাপন্থী কবি, সাহিত্যিকদের খপ্পর ছিল আমাদের সাহিত্য অঙ্গন। কিন্তু সব পরিবর্তন হলেও, জিয়া পরিবার বিদ্বেষী রাশেদ রউফ ও তার স্ত্রী আয়েশা হক শিমু এখনও হাসিনা ফেরার প্রত্যাশায় সাহিত্য চর্চার নামে আওয়ামী ফ্যাসিজম চর্চায় মশগুল। দৈনিক আজাদীতে লিখা ছাপানোয় মালিক পক্ষের বাইরে রাশেদ রউফের প্রভাব সবচে বেশী। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী কিংবা বিএনপির কোনো দিবসে কেউ জিয়াউর রহমান কিংবা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লিখা দিলে রাশেদ রউফ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার অভিযোগ আছে।

মুজিবের জন্ম-মৃত্যুতে ওবায়দুলের ওয়াল, ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছবি
তথাকথিত শিশু সাহিত্য উৎসবে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে ওবায়দুল সমীরকে। তার ফেসবুক ঘুরে দেখা গেছে, পলাতক ফ্যাসিস্ট বন্দনাই আছে শুধু তা নয় আছে বিএনপি বিদ্বেষও। ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে ভোট দিয়ে তিনি লিখেছেন—চট্টগ্রাম-৪ আসনে সুষ্ঠু উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে…. জয় হোক গনতন্ত্রের….

রাশেদ রউফের ফ্যাসিস্ট চত্রির ফুটে ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরেক শিশু সাহিত্যিক জুলফিকার শাহাদাৎ-এর একটি কমেন্টে। রাশের রউফ সম্পর্কে তিনি লিখেন—‘আমরা বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশুসাহিত্য সম্মেলন করেছি। সেখানে সারাদেশের প্রায় ৪০০ শিশু সাহিত্যিক উপস্থিত ছিলেন। আমরা বিএনপি, জামায়াত, আস্তিক-নাস্তিক এমনকি আওয়ামী লীগপন্থীসহ সব বিশ্বাসের শিশু সাহিত্যিককে রেখেছি। রাশেদ রউফ তার অনুষ্ঠানে চিহ্নিত কালচারাল ফ্যাসিস্ট ছাড়া কাউকে ডাকেনি। যেমন আবু সালেহ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, রেজাউদ্দিন স্টালিন, হাসান হাফিজ, আনোয়ারুল কবীর বুলু, আতিক হেলাল, আশরাফ পিন্টুসহ কাউকেই তার অনুষ্ঠানে রাখেনি। জীবনে যে শেখ মুজিব নিয়ে একটা ছড়া লিখেছে তাকেও সে ঢাকা থেকে অতিথি বানিয়ে তার অনুষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে। এতেই তার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চরিত্র ফুটে উঠেছে।’
রাশেদ রউফের শিশু সাহিত্য উৎসবে যারা আসছেন তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া প্রায় সকলেই মুজিব আদর্শের পরীক্ষিত সৈনিক। মুজিব বন্দনার পাশাপাশি তাদের আরেকটা যোগ্যতা আছে। তারা চরম জিয়া পরিবার বিদ্বেষী। জিয়াউর রহমানকে মুজিবের খুনি, বেগম জিয়ার জটিল শারিরীক সমস্যায় শয্যাশায়ী থাকাকে তারা নানাভাবে ব্যঙ্গ করেছে বিগত দিনে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে খুনি আখ্যা দিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার আছে হাজারো নজীর।
কবি শোয়েব নাঈমের ভাষায়—নিজেকে শিশুসাহিত্যিক দাবি করার আগে নিজের লেখাকে প্রশ্ন করুন। আমার লেখা কি শিশুদের চিন্তায় আলোড়ন তোলে? শিশুজগতকে সমকালীন সময়ের আলোকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়? নাকি কেবল নিজের পরিচিতি বাড়ানো এবং লেখা ছাপানোর উদ্দেশ্যেই—দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত রাশেদ রউফের লেখায় তৈলমর্দন করে নিজেকে যোগ্য করে তুলি?
শিশুসাহিত্য নাম দিয়ে কয়েকটি বই বের করে, আর রাশেদ রউফকে ভক্তি দেখিয়ে একমাত্র চট্টগ্রামেই শিশুসাহিত্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব!
যেমন রাশেদ রউফ তেমন তার জীবনসঙ্গীনিও আয়েশা হক শিমু। তার ফেসবুক ওয়ালজুড়ে কেবলই মুজিব বন্দনা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেড় যুগের সবচে বড় আইকন মুজিবের ছবি দিয়ে শিমু তার স্বামীর ছড়া লিখেছে—‘কত পথ আছে দেশে, আছে শত মত/তোমার জন্য করি নতুন শপথ/তোমার কণ্ঠে জাগে এই চরাচর/বঙ্গবন্ধু তুমি অজর অমর।’

রাশেদ রউফের অনুষ্ঠান শিশু সাহিত্যিকদের হলেও মূলত আওয়ামী শিশু সাহিত্যিক কিংবা মুজিববাদী শিশু সাহিত্যিকদের। অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকা কালচারাল ফ্যাসিস্টরা। যারা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, নান্দনিক চট্টলাসহ বিভিন্ন আওয়ামী সংগঠনের সদস্য।

সচেতনমহলের ধারণা—রাশেদ রউফ মূলত আওয়ামী কালচারাল ফ্যাসিস্টদের সংগঠিত করছেন। দেশে যে সময়টাতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করেছে। হাসিনার রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সোজ হয়ে দাঁড়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনরাত পরিশ্রম করছেন সেই সময়টাতে হাসিনার পুত্র রাশেদ তার স্বগোত্রীয়দের সমাবেশ ঘটাচ্ছেন।
প্রশ্ন উঠছে—রাশেদ রউফ এই সাহস এবং খরচের অর্থ পাচ্ছেন কোথায়? আওয়ামী অবৈধ অর্থে লালন হওয়া রাশেদ রউফ কী হাসিনা পুনর্বাসনের ফান্ড থেকে সহায়তা পেয়েছেন? নাকি দৈনিক আজাদী মালিক পক্ষ অর্থায়ন করছেন? আজাদী মালিক পক্ষ এখনও জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ভাঙ্গতে যাওয়া শুকলাল দাশকেও বহাল তবিয়তে রেখেছে। আর রাশেদ রউফকে কী তারাই ছেড়ে দিয়েছে ভিন্ন নামে মুজিব উৎসব, রাসেল উৎসব উদযাপন করতে?
পলাতক আওয়ামী তথাকথিত কবিদের জড়ো করার কারণে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটে তার দায় কে নিবে?
