পরকিয়া—পদ হারালেন জামায়াতের ইসমাঈল
এক প্রবাসির ডিভোর্সি স্ত্রীর সঙ্গে পরকিয়া প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানা জামায়াতের সভাপতি মো. ইসমাঈলকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে তার দল। তার পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
জামায়াতের নগর শাখার আমির নজরুল ইসলাম তাকে পদ থেকে অব্যাহতি ঘোষণা দেয়ার একটি ভিডিও চট্টগ্রাম সময়ের হাতে আসে। সেই ভিডিও সূত্রে দলটির নগর শাখার শীর্ষ এক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়াও ওই নারীর সঙ্গে ইসমাঈলের পরকিয়ার বিভিন্ন আলমত চট্টগ্রাম সময়ের হাতে আসছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে ডক্টর অ্যাসিট্যান্ট হিসেবে আইএমসিএইচে ইসমাঈলের সুপারিশে চাকুরি নেন লোহাগাড়ার কলাউজানের এক নারী। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই নারীর পদোন্নতি ঘটে। তিনি নন-এসি রুমে ডাক্তারের রোগীর চাপ সামলানোর ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে হয়ে যান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের টেকনোলজিস্ট সহকারী। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ সেই প্রবাসী স্বামী ওই নারীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। কারণ হিসেবে বনিবনা হচ্ছে না উল্লেখ করলেও স্বামীর পরিবারের দাবী-ইসমাঈলের সঙ্গে বিয়ে বহির্ভুত সম্পর্কে জড়ানোর প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তার স্বামী ডিভোর্স দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠলে জামায়াতের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে ইসমাঈলের বিষয়ে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সোমবার প্রতিবেদন জমা দেয়। বুধবার তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
ইসমাঈল জামায়াতের শাহজাহান-হেলালী-ফয়সাল সিন্ডিকেটের সদস্য। জামায়াতের নবগঠিত যুব শাখার চট্টগ্রাম মহাগরের সহ-সভাপতি। আবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ামীর (ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়ুথ) চট্টগ্রামের দায়িত্বে রয়েছেন। ইসমাঈলের বিরুদ্ধে ওয়ামির রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ অনেক পুরোনো। তবে, জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রধান মোহাম্মদ শাহজাহান সিন্ডিকেট ইসমাঈলের হাত দিয়ে বিভিন্ন ফান্ড থেকে টাকা সরিয়ে নিজেদের পকেট ভর্তি করে বলে ইসমাঈল বীরদর্পে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ইসমাঈল জামায়াত প্রতিষ্ঠিত যে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের উপ-পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন সেখানে ক্যান্টিন নিয়ন্ত্রণ, ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে যাবতীয় আর্থিক বিষয় তার নিয়ন্ত্রণে। ৫০০ শয্যার সেই হসপিটালের আয়ের বড় একটি অংশও নয়-ছয় করে এই সিন্ডিকেট। বিষয়টি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সংগঠনের অগোচরে হয় বলে দাবী জামায়াত সংশ্লিষ্টদের।
তবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইসমাঈলের রুকন পদ বাতিলের ঘোষণা না আসায় জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি এমন অপরাধে জড়িয়ে জামায়াতের সকল পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন একজন সংসদ সদস্য। কিন্তু ইসমাঈলের থানা সভাপতির পদ বাতিল হলেও তার অন্যান্য পদের বিষয়ে মোহাম্মদ শাহজাহান-হেলালীদের ভয়ে নগর আমির নজরুল ইসলাম সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এবিষয়ে নগর জামায়াতের নেতাদের একাংশ কেন্দ্রীয় জামায়াতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন বলে জানা গেছে।
