নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় ছিল জলদস্যুদের রাজত্ব। সেই অন্ধকার জগৎ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১২৭ জন ‘আলোর পথের অভিযাত্রী’র পাশে দাঁড়িয়েছে র‌্যাব-৭। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ ও তাঁদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ র‌্যাব-৭-এর ‘এলিট হল’-এ মহাপরিচালক (ডিজি) র‌্যাব ফোর্সেসের পক্ষ থেকে এসব উপহার তুলে দেন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

র‌্যাব সূত্র জানায়, উপকূলীয় এলাকায় দস্যুতা ও অপরাধ নির্মূলে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২৪ সালে তিন দফায় মোট ১২৭ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের মধ্যে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। আত্মসমর্পণের পর থেকেই র‌্যাব-৭ এই ব্যক্তিদের নিয়মিত তদারকি ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক সহায়তার মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত রেখেছে।

অনুষ্ঠানে র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অপরাধ নির্মূলের পাশাপাশি মানবিক ও সংশোধনমূলক কাজে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। যারা ভুল পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছেন, তাঁরা যেন সুন্দরভাবে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ক্ষুদ্র আয়োজন। তাঁদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে র‌্যাবের এই সহযোগিতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

উপহার গ্রহণকালে আত্মসমর্পণকৃত কয়েকজন জলদস্যু আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, এক সময় ঈদের দিনগুলোতেও তাঁরা সাগরে বা পাহাড়ে পালিয়ে বেড়াতেন। এখন পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে ঈদ কাটাতে পারছেন। র‌্যাবের এই কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁদের অন্ধকার জীবনে ফেরার সব পথ বন্ধ করে সুন্দরভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে র‌্যাব-৭-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর