জ্বালানি সংকট নিরসনে যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ
দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে জনমনে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক দূর করতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অপচয় রোধ ও অবৈধ মজুদ ঠেকাতে যানবাহনে তেল বিক্রির পরিমাণ নির্ধারণ বা রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি যানবাহন একবারে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল সংগ্রহ করতে পারবে না। নির্ধারিত সীমাগুলো হলো: দৈনিক মোটরসাইকেলে একবারে সর্বোচ্চ ২ লিটার (অকটেন/পেট্রোল)। প্রাইভেটকারে একবারে সর্বোচ্চ ১০ লিটার (অকটেন/পেট্রোল)। এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসে একবারে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লিটার (অকটেন/পেট্রোল)। পিকআপ ও লোকাল বাসে একবারে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ লিটার (ডিজেল)। দূরপাল্লার বাস ও বড় ট্রাকে একবারে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার (ডিজেল)।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতে ফিলিং স্টেশন ও ডিলারদের জন্য বিপিসি নিম্নলিখিত শর্তাবলী জারি করেছে: জ্বালানি বিক্রির সময় ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখসহ ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে। পরবর্তী ক্রয়ের সময় পূর্ববর্তী ক্রয়ের রশিদের মূল কপি জমা দিতে হবে। ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করবেন। বিক্রয় ও মজুদের তথ্য নিয়মিত সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করতে হবে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় পর্যালোচনা করে তেল সরবরাহ করবে।
বিপিসি জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম আদায় করা আইনগত অপরাধ। বর্তমানে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরির চেষ্টা করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিপিসি আশ্বস্ত করেছে যে, আমদানিকৃত তেল নিয়মিতভাবে দেশে আসছে এবং দেশের সকল ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে রেল ওয়াগন ও ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
