চট্টগ্রামে বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ আগুন—প্রাণ হারালেন ২ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন টেরিবাজার এলাকার ‘কেবি অর্কিড প্লাজা’ নামে একটি বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঘটা এই দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বধুপুর মির্জা বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন খলিফার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) এবং একই উপজেলার পাচুরিয়া এলাকার মামনুল কাদেরের ছেলে সোলাইমান (২৮)। এ ঘটনায় দগ্ধ মোহাম্মদ মামুন (২৮) নামে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও উদ্ধার অভিযান
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, টেরিবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কেটের একটি টেইলার্স থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই দোকানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ রাখা ছিল, যা আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরির পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ আসার পরপরই হঠাৎ আগুন লেগে যায়।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
কেবি অর্কিড প্লাজা ভবনটির নিচের পাঁচ তলায় শপিং মল এবং উপরের পাঁচ তলায় আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটিতে জুয়েলারি দোকান, বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও টেইলার্সসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন মূলত চতুর্থ তলা থেকে ছড়িয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় পৌঁছে যায়। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
